০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নন্দিনী লুইজা

জাতি ও জাতীয়তা সম্পর্কে সম্যক ধারণা

  • প্রকাশিত ০৬:০০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ২৫০ বার দেখা হয়েছে

জাতি এবং জাতীয়তা দুটি আলাদা শব্দ। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক জাতি গোষ্ঠী এমনকি মুসলমানদের মধ্যেও এ বিষয়টি পরিষ্কার ধারণা নেই। তাদের অনেকে এই দুটোকে আলাদা করতে না পেরে। গোলতাল পাকিয়ে ফেলে যার সীমা পরিসীমা নেই। বিভিন্ন সমাজে জাতি সমন্বয় গঠিত অতীতে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীকে সমাজের একত্রভুক্ত করা হতো এই একতা এখনো বাস্তবে বিদ্যমান এটি বাস্তব যে এখনো মানুষের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী একই চিন্তা মূল্যবোধ অনুভূতি ও সর্বস্থানের বিশ্বাসী তাদের মধ্যে যে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে তা তাদের নিজস্ব নয়, বরং তা সরকার সমূহ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কার্যক্রম।জাতি বলতে কোন ভূখণ্ড বা রাষ্ট্রে বসবাসরত জনসমষ্টি যারা একই রাজনৈতিক ও আইনগত বিধানের আওতায় রয়েছে তাদেরকে বুঝায়। একই ভূখণ্ডে অবস্থানের কারণ বিভিন্ন হতে পারে। ঐতিহাসিক, ভাষাগত, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, সামাজিক মূল্যবোধ বা সামস্টিক জীবনের অভিন্ন লক্ষ্যের কারণে এটি হতে পারে। জনতা শব্দটি সাধারণত সমাজবিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয় এবং জাতি শব্দটি আন্তর্জাতিক ও আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয় ব্যবহৃত হয়।

বর্তমান পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতির অস্তিত্ব রয়েছে। যে বিষয়টি তাদের এক জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ করেছে তা হল সামস্টিক জীবন এবং অভিন্ন আইন ও সরকার। এ সকল জাতির অনেকেরই দীর্ঘ ঐতিহাসিক কোন নজিরও নাই বরং সামাজিক কোনো ঘটনা প্রবাহের ফলে সৃষ্টি হয়েছে, যেমন মধ্যপ্রাচ্যের অনেক রাষ্ট্রই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ওসমানী খেলাফতের কারণে সৃষ্ট হয়েছে।

বর্তমান পৃথিবীতে এমন কোন জাতি নেই যারা এক রক্ত ও বর্ণ হতে সৃষ্ট এবং অন্য জাতি হতে স্বতন্ত্র। সুতরাং জাতি বলতে যা বুঝায় তাতে আমরা এমন এক জনসমষ্টি যারা একই ভূখণ্ডে, একই পতাকার নিচে, অভিন্ন সংবিধান ও সরকারের অধীনে বসবাস করছি। কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষ ইরানি, গ্রীক, আরব না মোগল ছিল তা আমরা জানিনা।

জাতীয়তার বিষয়টি এবার আসা যাক। সমাজের যেকোনো একক তা পরিবার, গোত্র সম্প্রদায় বা জাতি যাই হোক না কেন তার সঙ্গে এক প্রকার আবেগ ও গোঁড়ামি জড়িয়ে রয়েছে অর্থাৎ মানুষের মধ্যে নিজ পরিবার গোত্র ও জাতির প্রতি এক ধরনের পক্ষপাতিত্ব রয়েছে। পক্ষপাতিত্বের এ
অনুভূতি কখনো কখনো বৃহত্তর এককেও দেখা দিতে পারে।

জাতীয়তার বিষয়টিও স্বার্থপরতা ও পক্ষপাতিত্বের অন্তর্ভুক্ত, তবে তা ব্যক্তি ও গোত্রের গন্ডি পেরিয়ে জাতীয় গণ্ডিতে প্রবেশ করেছে। জাতীয়তার মধ্যে স্বার্থপরতার সাথে স্বাভাবিকভাবেই পক্ষপাতিত্ব, গোঁড়ামি, জাতীয় মানদন্ডে স্বজাতির ত্রুটির প্রতি নির্লিপ্ততা, স্বজাতির ভালো দিকগুলোকে বড় করে দেখা, অহংকার ও গর্বের মতো বিষয়গুলো চলে আসে।

বাহ্যিকভাবে মনে হয় জাতীয়তাবাদী চেতনা হলো একটি ভূখণ্ডের মানুষের সৃষ্টি ও চিন্তার ফল যা ঐ ভূখণ্ডের সম্পদ এবং যা কিছু জনসাধারণের দৃষ্টিতে জাতীয় বলে পরিগণিত হয় তা গ্রহণ, সে সাথে ওই ভূখণ্ডের বহির্ভূত সকল কিছুই বিদেশী ও বিজাতীয় বলে পরিত্যাগ। এ মানদন্ডই জাতীয়তা যাচাইয়ের ভিত্তি বলে অনেকে মনে করেন।

কিন্তু এ মানদন্ড সঠিক নয়। কারণ অসংখ্য লোক নিয়ে জাতি গঠিত হয়। তার মধ্যে কোন ব্যক্তির সৃজনশীল কিছু করলেই অন্যরা তা গ্রহণ করবে তা সম্ভব নয় বরং সাধারণের পছন্দ ভিন্ন কিছু হতে পারে। তাই এমন বিষয় জাতীয় বলে ধরা যাবে না।

এ কারণেই জ্ঞানগত বিষয়সমূহ সমগ্র বিশ্বের সম্পদ বলে পরিগণিত। কেননা একটি দেশের নবী, দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা ও সকল জাতির সম্পদ এবং তাঁদের চিন্তা ও বিশ্বাস কোন বিশেষ জাতির জন্য নির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ নয়।

একটি দেশের জাতীয়তা টিকিয়ে রাখার জন্য অস্ত্র ধারণ করতে হয়েছে, রক্ত ঝরেছে, নিজের ভূখণ্ডকে অন্যের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রাণপণ লড়াই করতে হয়েছে। এই সব কিছু মিলেই জাতীয়তা।
জাতীয় অনুভূতি ও আবেগের চেতনার দৃষ্টিতে যা কিছু ঐ দেশের উদ্ভাবিত হয় তা-ই জাতি হতে পারে না। আবার যা কিছুই দেশের সীমার বাইরে থেকে আসে তা বিজাতীয় বলে ঝুঁকিপরিণত হয় না, বরং মানদন্ড হলো প্রথমে জানতে হবে ঐ বিষয়টি কোন জাতির বিশেষ রং ট্র কি? নাকি তা রংহীন সর্বব্যাপী ও বিশ্বজনীন? দ্বিতীয়ত ঐ জাতি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে তা গ্রহণ করছে নাকি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যদি দুটি শর্তই পূরণ হয় তবে ঐ বিষয়টি নিজস্ব ও জাতীয় বলে গণ্য হবে আর যদি না হ ঁটপ টক ডয় না থাকে দুটো শর্ত সম্মিলিত না হয় অর্থাৎ যে কোন একটি উপস্থিত থাকে অথবা কোনোটিই উপস্থিত থাকে না তবে তা বিজাতীয় বলে গণ্য হবে। যাহোক কোন বিষয়ে কোনো জাতির মধ্যে উদ্ভাবিত হলেই তা যেমন স্বীয় সম্পদ হতে পারেনা । আবার একই কারণে তা বিজাতীয় হতে পারে না।তাই বলা যায় বিভিন্ন জাতির ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে পরস্পরকে পরস্পরের প্রতি শক্র করে তোলে এবং অন্যের ন্যায্য অধিকারের প্রতি ভ্রূকুটি প্রদর্শন করে।

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

নন্দিনী লুইজা

জাতি ও জাতীয়তা সম্পর্কে সম্যক ধারণা

প্রকাশিত ০৬:০০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪

জাতি এবং জাতীয়তা দুটি আলাদা শব্দ। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক জাতি গোষ্ঠী এমনকি মুসলমানদের মধ্যেও এ বিষয়টি পরিষ্কার ধারণা নেই। তাদের অনেকে এই দুটোকে আলাদা করতে না পেরে। গোলতাল পাকিয়ে ফেলে যার সীমা পরিসীমা নেই। বিভিন্ন সমাজে জাতি সমন্বয় গঠিত অতীতে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীকে সমাজের একত্রভুক্ত করা হতো এই একতা এখনো বাস্তবে বিদ্যমান এটি বাস্তব যে এখনো মানুষের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী একই চিন্তা মূল্যবোধ অনুভূতি ও সর্বস্থানের বিশ্বাসী তাদের মধ্যে যে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে তা তাদের নিজস্ব নয়, বরং তা সরকার সমূহ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কার্যক্রম।জাতি বলতে কোন ভূখণ্ড বা রাষ্ট্রে বসবাসরত জনসমষ্টি যারা একই রাজনৈতিক ও আইনগত বিধানের আওতায় রয়েছে তাদেরকে বুঝায়। একই ভূখণ্ডে অবস্থানের কারণ বিভিন্ন হতে পারে। ঐতিহাসিক, ভাষাগত, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, সামাজিক মূল্যবোধ বা সামস্টিক জীবনের অভিন্ন লক্ষ্যের কারণে এটি হতে পারে। জনতা শব্দটি সাধারণত সমাজবিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয় এবং জাতি শব্দটি আন্তর্জাতিক ও আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয় ব্যবহৃত হয়।

বর্তমান পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতির অস্তিত্ব রয়েছে। যে বিষয়টি তাদের এক জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ করেছে তা হল সামস্টিক জীবন এবং অভিন্ন আইন ও সরকার। এ সকল জাতির অনেকেরই দীর্ঘ ঐতিহাসিক কোন নজিরও নাই বরং সামাজিক কোনো ঘটনা প্রবাহের ফলে সৃষ্টি হয়েছে, যেমন মধ্যপ্রাচ্যের অনেক রাষ্ট্রই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ওসমানী খেলাফতের কারণে সৃষ্ট হয়েছে।

বর্তমান পৃথিবীতে এমন কোন জাতি নেই যারা এক রক্ত ও বর্ণ হতে সৃষ্ট এবং অন্য জাতি হতে স্বতন্ত্র। সুতরাং জাতি বলতে যা বুঝায় তাতে আমরা এমন এক জনসমষ্টি যারা একই ভূখণ্ডে, একই পতাকার নিচে, অভিন্ন সংবিধান ও সরকারের অধীনে বসবাস করছি। কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষ ইরানি, গ্রীক, আরব না মোগল ছিল তা আমরা জানিনা।

জাতীয়তার বিষয়টি এবার আসা যাক। সমাজের যেকোনো একক তা পরিবার, গোত্র সম্প্রদায় বা জাতি যাই হোক না কেন তার সঙ্গে এক প্রকার আবেগ ও গোঁড়ামি জড়িয়ে রয়েছে অর্থাৎ মানুষের মধ্যে নিজ পরিবার গোত্র ও জাতির প্রতি এক ধরনের পক্ষপাতিত্ব রয়েছে। পক্ষপাতিত্বের এ
অনুভূতি কখনো কখনো বৃহত্তর এককেও দেখা দিতে পারে।

জাতীয়তার বিষয়টিও স্বার্থপরতা ও পক্ষপাতিত্বের অন্তর্ভুক্ত, তবে তা ব্যক্তি ও গোত্রের গন্ডি পেরিয়ে জাতীয় গণ্ডিতে প্রবেশ করেছে। জাতীয়তার মধ্যে স্বার্থপরতার সাথে স্বাভাবিকভাবেই পক্ষপাতিত্ব, গোঁড়ামি, জাতীয় মানদন্ডে স্বজাতির ত্রুটির প্রতি নির্লিপ্ততা, স্বজাতির ভালো দিকগুলোকে বড় করে দেখা, অহংকার ও গর্বের মতো বিষয়গুলো চলে আসে।

বাহ্যিকভাবে মনে হয় জাতীয়তাবাদী চেতনা হলো একটি ভূখণ্ডের মানুষের সৃষ্টি ও চিন্তার ফল যা ঐ ভূখণ্ডের সম্পদ এবং যা কিছু জনসাধারণের দৃষ্টিতে জাতীয় বলে পরিগণিত হয় তা গ্রহণ, সে সাথে ওই ভূখণ্ডের বহির্ভূত সকল কিছুই বিদেশী ও বিজাতীয় বলে পরিত্যাগ। এ মানদন্ডই জাতীয়তা যাচাইয়ের ভিত্তি বলে অনেকে মনে করেন।

কিন্তু এ মানদন্ড সঠিক নয়। কারণ অসংখ্য লোক নিয়ে জাতি গঠিত হয়। তার মধ্যে কোন ব্যক্তির সৃজনশীল কিছু করলেই অন্যরা তা গ্রহণ করবে তা সম্ভব নয় বরং সাধারণের পছন্দ ভিন্ন কিছু হতে পারে। তাই এমন বিষয় জাতীয় বলে ধরা যাবে না।

এ কারণেই জ্ঞানগত বিষয়সমূহ সমগ্র বিশ্বের সম্পদ বলে পরিগণিত। কেননা একটি দেশের নবী, দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা ও সকল জাতির সম্পদ এবং তাঁদের চিন্তা ও বিশ্বাস কোন বিশেষ জাতির জন্য নির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ নয়।

একটি দেশের জাতীয়তা টিকিয়ে রাখার জন্য অস্ত্র ধারণ করতে হয়েছে, রক্ত ঝরেছে, নিজের ভূখণ্ডকে অন্যের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রাণপণ লড়াই করতে হয়েছে। এই সব কিছু মিলেই জাতীয়তা।
জাতীয় অনুভূতি ও আবেগের চেতনার দৃষ্টিতে যা কিছু ঐ দেশের উদ্ভাবিত হয় তা-ই জাতি হতে পারে না। আবার যা কিছুই দেশের সীমার বাইরে থেকে আসে তা বিজাতীয় বলে ঝুঁকিপরিণত হয় না, বরং মানদন্ড হলো প্রথমে জানতে হবে ঐ বিষয়টি কোন জাতির বিশেষ রং ট্র কি? নাকি তা রংহীন সর্বব্যাপী ও বিশ্বজনীন? দ্বিতীয়ত ঐ জাতি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে তা গ্রহণ করছে নাকি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যদি দুটি শর্তই পূরণ হয় তবে ঐ বিষয়টি নিজস্ব ও জাতীয় বলে গণ্য হবে আর যদি না হ ঁটপ টক ডয় না থাকে দুটো শর্ত সম্মিলিত না হয় অর্থাৎ যে কোন একটি উপস্থিত থাকে অথবা কোনোটিই উপস্থিত থাকে না তবে তা বিজাতীয় বলে গণ্য হবে। যাহোক কোন বিষয়ে কোনো জাতির মধ্যে উদ্ভাবিত হলেই তা যেমন স্বীয় সম্পদ হতে পারেনা । আবার একই কারণে তা বিজাতীয় হতে পারে না।তাই বলা যায় বিভিন্ন জাতির ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে পরস্পরকে পরস্পরের প্রতি শক্র করে তোলে এবং অন্যের ন্যায্য অধিকারের প্রতি ভ্রূকুটি প্রদর্শন করে।