১১:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
মোহাম্মদ এনামুল হক জীবন সেক্রেটারি, ঢাকা বিভাগ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা।

ছোট্ট একটা উপদেষ্টা পরিষদে এত বড় সামান্বয়হীনতা হীনতা!মোহাম্মদ এনামুল হক জীবন

  • প্রকাশিত ০৬:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ১৭৬ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ এর বিপ্লব কোন সাধারণ বিপ্লব নয়, এটা ছিল ঐতিহাসিক, অসাধারণ, স্মরণীয় ও বরণীয় বিপ্লব!বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ জনপ্রিয় দল বিএনপি, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সুসংগঠিত দল জামায়াত ইসলামী, বাংলাদেশের অন্যান্য আরো অনেক দল দীর্ঘদিন ধরে বহু চেষ্টা, সাধনা, আন্দোলন, সংগ্রাম করে, সম্মিলিতভাবে কিংবা আলাদা আলাদাভাবে ভারতের পদলেহি স্বৈরাচারী জগদ্দল পাথরকে হটাতে পারেনি ; কিন্তু ভিন্ন একটা ব্যানারে, ভিন্ন একটা ইস্যুতে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন জমে উঠে এবং এই জমে উঠা আন্দোলনকে শেখ হাসিনা নির্বিচারে গুলি করে, গায়ের জোরে দমাতে গিয়ে আগুনে ঘি ঢেলে দেয়! মানুষ নিজের বিবেকের কাছে পরাজিত হয়ে পড়লো, মানুষ চিন্তা করল, নিরপরাধ ও নিষ্পাপ ছেলেমেয়েদের এভাবে পৈচাশিক হত্যায় সরকার মেতে উঠছে কেন? এই বিপ্লবের মহানায়ক তথা আইকন শহীদ আবু সাঈদ নিরীহ ও নিরস্র অবস্থায় একটা ছোট্ট লাঠি হাতে নিয়ে বুক পেতে দিয়ে অন্যায় আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের যে অকুতোভয়ী চরম পারাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছে তা সকল মানুষের বিবেকে নাড়া দিয়েছে। কেউ তাকে সন্তান হিসেবে মনের গহীনে স্থান দিয়ে প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে, কেউ তাকে ছোট ভাই রূপ মনের মনিকোঠায় স্থান দিয়ে আন্দোলনে সামিল হয়েছে, কেউ তাকে বড় ভাই হিসেবে গ্রহণ করে প্রতিবাদে পা দিয়েছে। এভাবে অগণিত মানুষ তাকে হৃদয়ে লালন করেছে ও প্রতিবাদী হিসেবে নিজেদেরকে প্রদর্শন করেছে, মানুষের ঢলের মাঝে সাত বছর বয়সের একটি বাচ্চা ছেলেকে যখন সাংবাদিক জিজ্ঞেস করল তুমি কেন নেমে এসেছ?, সাত বছর বয়সের ওই বাচ্চাটি পুলিশের দিকে ইশারা করে জবাব দিল, ‘ওরা আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে!’ সাংবাদিক পুনরায় জিজ্ঞেস করল, তোমার ভাই কে? বাচ্চাটি জবাব দিল, ‘আমার ভাই আবু সাঈদ! ‘
আমরা ভিডিওতে, ফেসবুকে অনেকে প্রত্যক্ষ করেছি আরেকটি ছোট বাচ্চা কয়েকজন পুলিশ দাঁড়ানো সেখানে একজন পুলিশকে এসে অনবরত ঘুসি মারতে থাকলো আর বলতে থাকলো এরা আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে!

এভাবে অসংখ্য মানুষ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, রিফাত, ওয়াসিম আকরাম, আশরাফুল ইয়ামিন শান্ত, তানিম, ইরফানসহ দেড় হাজার ছাত্র, জনতা, শ্রমিক, দোকানদার অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছে। নির্বিচারে ও অকাতরে পিচাশের মত হত্যার লোমহর্ষক দৃশ্য অবলোকন করে জাতির সর্বস্তরের মানুষ দল, মত, ধর্ম,বর্ণ জাতি, সম্প্রদায় মানবতা বিধ্বংসের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে নেমে পড়ে, লক্ষ লক্ষ আবাল বৃদ্ধ বনিতার বাঁধভাঙ্গা ঢেউ আচড়ে পরে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া ও রূপসা থেকে পাটুরিয়া। মানুষের হৃদয় ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে পড়ছিল ; ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক শিক্ষিকা, অভিভাবক অভিভাবিকা, তরুণ -তরণী, যুবক-যুবতী, বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত, গণধিকার কেউ কারো ডাকের অপেক্ষা করেনি, দলে দলে পঙ্গপালের ন্যায় গুলি, বোমা, টিয়ার সেল, রাবার বুলেট, স্নাইপার ও শট গানের গুলি সবকিছুকে তুচ্ছ করে ফ্যাসিবাদের জগদ্দল পাথর হঠাতে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এটাকে গণ বিপ্লবে রূপ দেয়। স্বৈরাচারিনী ও খুনি হাসিনা বারংবার ক্ষমতা কুক্ষীগত রাখার পিছনে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে সাপোর্ট করেছে ও বেকিং দিয়েছে আমাদের তথাকথিত প্রতিবেশী নির্লজ্জ ভারত! দেশের সর্বস্তরের মানুষ পরিষ্কারভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, ভারতই আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু আমাদেরকে ঘিরে আছে! আমাদের দেশের অস্থিতিশীলতা, জাতিকে দ্বিধা-বিভক্ত করা, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণ, দেশের সকল সেক্টরে তথা রন্ধ্রে রন্ধ্রে গোয়েন্দা অপতৎপরতা আমাদেরকে বঞ্চিত ও নিষ্পেষিত করে যাচ্ছে ভারত প্রতিনিয়ত! তাই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র ছাত্রীদের যৌক্তিক দাবি আদায় করতে গিয়ে ভারতীয় পোষ্য ও অনুগত দাসী হাসিনাকে সরানোর প্রয়োজনে সবাই সকল ভেদাভেদ ভুলে যায়; এদেশে মানুষের মধ্যে যখন উপলব্ধি জাগরিত হয় তখন ভারতের পুতুল হাসিনাকে উৎখাত করতে যে কোন মূল্যে, তথা জান- মাল সবকিছু উৎসর্গ করে বাংলা প্রতিবাদের ঝড় তোলে এবং ভারতের ইশারায় চালিত শাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় এবং ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের গভীর থেকে যে উপলব্ধি তৈরি হয়েছে, ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির যে একপেশে ও প্রতিহিংসা পরায়ণ ও অবন্ধুসুলভ আচরণকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য মানুষের মধ্যে যে ঐক্য গড়ে উঠেছে এবং এই ঐক্য ও সংহতির যে বিপ্লব সাধিত হয়েছে তার বহিঃপ্রকাশ হলো ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে ঘটিত বিপ্লবী সরকার।

ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস জনগনের বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা উপলব্ধি করতে পারলেও হঠাৎ করে ক্ষমতার চেয়ার পেয়ে বসা কিছু উপদেষ্টা সেই উপলব্ধির কার্যকারিতা দেখাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন!

৫ আগস্ট বিপ্লব সফল হয় এবং স্বৈরাচারী ভারতীয় দালাল হাসিনা তার একমাত্র বন্ধু ও প্রভু দেশ ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখ ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস এর উপদেষ্টা গণের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। ১১ আগস্ট তারিখ প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ও উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার সচিবালয়ে ঘোষণা দেন যে, ‘ভারতে কোন ইলিশ রপ্তানি করা হবে না। তিনি যুক্তি ও তুলে ধরেন যে, দেশের মানুষ যাতে ইলিশ পায় এবং কম দামে ইলিশ খেতে পারে সে উদ্যোগ নেয়া হবে। দেশের মানুষ ইলিশ পাবেনা অথচ রপ্তানি করা হবে এটা হতে দেয়া যাবে না।’ উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার যে ঘোষণা দিয়েছেন তা সত্যিই আমাদের দেশের আপামর মানুষের বিপ্লবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যৌক্তিক ছিল। গণ মানুষের পক্ষ থেকে এটাকে সাদরে বরণ করে নিয়ে অনেক মানুষ পজেটিভ মন্তব্য দিয়েছিল ফেসবুকে তথা মিডিয়াতে।
কিন্তু বাণিজ্য উপদেষ্টা ডক্টর সালেহ উদ্দিন মৎস্য ও ফেসবুকে প্রথম মিডিয়া কিন্তু বাণিজ্য মাত্র প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার ১১ আগস্টের দেওয়া ঘোষণাকে তাচ্ছিল্য করে ২১ সেপ্টেম্বর ৩০০০ টন ইলিশ পাঠানোর অনুমোদন দিয়ে দেন!
ডক্টর সালেহ উদ্দিন সাহেব আপনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে কি করলেন জানেন?

(১) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা জনগণের আবেগ এবং পালস উপলব্ধি করে যে ঘোষণা দিলেন সেটাকে উপক্ষা বা তাচ্ছিল্য করলেন, আবার বললেন, এতে এমন কোন ক্ষতির কারণ হয়ে যায় নি, অর্থাৎ আপনি জনগণের আবেগের কারণে জনগণের আবেগের কারণে যে চেয়ার পেয়েছেন, সেই চেয়ারকেই অবজ্ঞা করলেন আর জনগণের পালস বা আবেগকে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন!

(২) রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের কারণে ক্ষমতা পেয়ে বিপ্লবকে অবমূল্যায়ন করলেন আর জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভারতীয় পণ্য বর্জন সহ ভারত পূজারী হাসিনাকে ঝােটিয়ে বিদায় করে যা বুঝাতে চাইলেন ডক্টর সালেহ উদ্দিন সাহেব তা বুঝলেন না!

(৩) অগণিত মানুষের হাত,পা,চোখ, কান সহ বিভিন্ন অঙ্গহানি করে, পঙ্গুত্ব বরণ করে, অর্থ দিয়ে এমনকি জীবন দিয়ে ভারতীয় আগ্রাসী মনোভাবের প্রতিবাদের যে বিদ্রোহী মনোভাব দেখিয়েছে উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন তা মোটেই আমলে নিলেন না।

(৪) পৃথিবীর সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান ও পরাশক্তি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যেখানে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সাথে সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন নের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ঘোষণা দিলেন, অথচ ভারতের সাম্প্রদায়িক, উগ্র-দাঙ্গাবাজ হিন্দুত্ববাদী মোদি, ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস এর সাথে বৈঠকে বসার ব্যাপারে অনিহা প্রকাশ করে অসৌজন্য মূলক মনোভাব এর নজির স্থাপন করেলো। আর অন্যদিকে বাণিজ্য উপদেষ্টা ডক্টর সালেহ উদ্দিন আহমেদ জনগণের সকল ক্ষোভ এর বিপরীতে অবস্থান নিয়ে ভারতকে উদারতা ও সৌজন্যতার এবং বদান্যতার প্রমাণ দিয়ে বসলেন! বলাবাহুল্য এতে পুরো বাংলাদেশের মানুষকে আপনি অপমানিত করলেন।

(৫)বিপ্লবের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে ভারতকে বার্তা দিয়ে দিয়েছে যে, আমাদেরকে দাস দাসী বানিয়ে আপনারা যে ও প্রভু গিরি করতে চান তা আমরা আর মেনে নেব না। আমরা একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভারতের সাথে প্রতিবেশী হিসেবে থাকতে চাই। আর আপনি জাতীয় সেন্টিমেন্ট এর পরিপন্থী হয়ে হাসিনার নতজানু নীতির পুনরাবৃত্তি করেছেন! তাই না? এমন আচরণ বিপ্লবের সাথে আদৌ সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

(৬) অতি ছোট্ট একটা উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে বর্তমান সরকার গঠিত হলেও ডক্টর মোহাম্মদ ইউনূসের কারণে বাংলাদেশের এই ছোট্ট বৈপ্লবিক সরকারের যে আকাশ চুম্বী ইমেজ বা মর্যাদা তৈরি হয়েছে আপনি সেটাকে নস্যাৎ করে দিলেন!
জনগণের আবেগের কারণেই আপনি চেয়ারে বসেছেন, বাণিজ্য উপদেষ্টা হয়েছেন, জনগণের এই আবেগকে মূল্যায়ন করে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেশটা ফরিদা আক্তারের দেওয়া ঘোষণাকে মর্যাদা দিয়ে এবারের মত ইলিশ না পাঠালে নিজেদের সমন্বয়হীনতার প্রকাশ ঘটতো না এবং পৃথিবীব্যাপী যে মর্যাদাবান সরকারের মর্যাদা সমুন্নত থাকতো আপনি কি সেটা বুঝতে পারেননি?

(৭) আপনি যুক্তি তুলে ধরেন ৫ লক্ষ ৩০ হাজার টন আমাদের ইলিশ উৎপাদনের তুলনায় সামান্য পরিমাণ ইলিশ পাঠালে এতে বড় কোন ক্ষতি হয়ে যায়নি। অথচ ভারতীয় লোকেরা প্রচার করে বেড়াচ্ছে মিডিয়া জগতে যে, আপনাদেরকে ধমক দেয়ার সাথে সাথে আপনারা দ্রুত ইলিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? এতে কি প্রমাণিত হয় না যে, আপনি বিপ্লবী সরকারকে তথা বাংলাদেশের জনগণ কে অপমানিত করেছেন!

(৮) আপনি কি দেখেননি আমাদের যখন পেঁয়াজের সংকট তখন তারা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাক আটকে দিয়েছে তবুও রপ্তানি বন্ধ রেখে আমাদেরকে ৪০/৫০ টাকা দামের পেঁয়াজ ৩০০ টাকায় কিনতে বাধ্য করেছে। আবার আমাদের যখন পেঁয়াজের সংকট নেই তথা চাহিদা নেই, তখন আমাদের দেশে পেঁয়াজ পাঠিয়ে দিয়ে দেশে কৃষকদেরকে পথের ফকির করে দিয়েছে! মাত্র কয়েকদিন আগে আপনি সালাউদ্দিন সাহেব কি দেখেননি আমাদের দেশে একনাগাড়ে বৃষ্টি আর বন্যা অথচ তারা বাঁধ ছেড়ে দিয়ে আমাদের কি পরিমান নাকানি সুবানি খাইয়েছে? কি পরিমাণ ফসল, গবাদি পশু, মৎস্য সম্পদ এমনকি মানবসম্পদ ভাসিয়ে দিয়ে অর্থনীতি ও মানবতার বারোটা বাজিয়েছে? আবার আমাদের যখন পানির অভাবে কৃষি কাজ করা যায় না তখন তারা উজান থেকে পানি আসা বন্ধ করে দিয়ে আমাদের দেশকে কিভাবে মরুভূমি তে পরিণত করে। যেই ভারত আমাদেরকে চতুর্মুখী আগ্রাসনের মাধ্যমে এভাবে বিপদগ্রস্ত করে, চেয়ারে বসতে না বসতেই সেই ভারত প্রেমে এত উদ্বেলিত হয়ে আপনি কি ডক্টর ইউনুসকে ওভারকাম করে ভারতের নিকট জনপ্রিয় হতে চান? ভারত তোষণ নীতি দিয়ে আর এটা করা যাবে না, ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা বোঝার চেষ্টা করুন; না হয় বিদায় নিতে হবে ঠিকই, কিন্তু মান সম্মান আমলা গিরি করে যতটুকু করেছেন তা খোয়াতেই হবে। আমরা যেখানে আশা করেছিলাম ৪০ থেকে ৫০ জনের উপদেষ্টা নিয়ে এই বিপ্লবী সরকারটি গঠিত হবে এবং একটা লম্বা সময় দেশে সংস্কারের ভূমিকা রেখে আপনারা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম করবেন; কিন্তু অল্প কয়েকজনের একটা ছোট্ট পরিষদের মধ্যে এত সমন্বয়হীনতা? এটাতো আশায় গুড়েবালি বৈ কি?

 

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

মোহাম্মদ এনামুল হক জীবন সেক্রেটারি, ঢাকা বিভাগ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা।

ছোট্ট একটা উপদেষ্টা পরিষদে এত বড় সামান্বয়হীনতা হীনতা!মোহাম্মদ এনামুল হক জীবন

প্রকাশিত ০৬:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ এর বিপ্লব কোন সাধারণ বিপ্লব নয়, এটা ছিল ঐতিহাসিক, অসাধারণ, স্মরণীয় ও বরণীয় বিপ্লব!বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ জনপ্রিয় দল বিএনপি, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সুসংগঠিত দল জামায়াত ইসলামী, বাংলাদেশের অন্যান্য আরো অনেক দল দীর্ঘদিন ধরে বহু চেষ্টা, সাধনা, আন্দোলন, সংগ্রাম করে, সম্মিলিতভাবে কিংবা আলাদা আলাদাভাবে ভারতের পদলেহি স্বৈরাচারী জগদ্দল পাথরকে হটাতে পারেনি ; কিন্তু ভিন্ন একটা ব্যানারে, ভিন্ন একটা ইস্যুতে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন জমে উঠে এবং এই জমে উঠা আন্দোলনকে শেখ হাসিনা নির্বিচারে গুলি করে, গায়ের জোরে দমাতে গিয়ে আগুনে ঘি ঢেলে দেয়! মানুষ নিজের বিবেকের কাছে পরাজিত হয়ে পড়লো, মানুষ চিন্তা করল, নিরপরাধ ও নিষ্পাপ ছেলেমেয়েদের এভাবে পৈচাশিক হত্যায় সরকার মেতে উঠছে কেন? এই বিপ্লবের মহানায়ক তথা আইকন শহীদ আবু সাঈদ নিরীহ ও নিরস্র অবস্থায় একটা ছোট্ট লাঠি হাতে নিয়ে বুক পেতে দিয়ে অন্যায় আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের যে অকুতোভয়ী চরম পারাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছে তা সকল মানুষের বিবেকে নাড়া দিয়েছে। কেউ তাকে সন্তান হিসেবে মনের গহীনে স্থান দিয়ে প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে, কেউ তাকে ছোট ভাই রূপ মনের মনিকোঠায় স্থান দিয়ে আন্দোলনে সামিল হয়েছে, কেউ তাকে বড় ভাই হিসেবে গ্রহণ করে প্রতিবাদে পা দিয়েছে। এভাবে অগণিত মানুষ তাকে হৃদয়ে লালন করেছে ও প্রতিবাদী হিসেবে নিজেদেরকে প্রদর্শন করেছে, মানুষের ঢলের মাঝে সাত বছর বয়সের একটি বাচ্চা ছেলেকে যখন সাংবাদিক জিজ্ঞেস করল তুমি কেন নেমে এসেছ?, সাত বছর বয়সের ওই বাচ্চাটি পুলিশের দিকে ইশারা করে জবাব দিল, ‘ওরা আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে!’ সাংবাদিক পুনরায় জিজ্ঞেস করল, তোমার ভাই কে? বাচ্চাটি জবাব দিল, ‘আমার ভাই আবু সাঈদ! ‘
আমরা ভিডিওতে, ফেসবুকে অনেকে প্রত্যক্ষ করেছি আরেকটি ছোট বাচ্চা কয়েকজন পুলিশ দাঁড়ানো সেখানে একজন পুলিশকে এসে অনবরত ঘুসি মারতে থাকলো আর বলতে থাকলো এরা আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে!

এভাবে অসংখ্য মানুষ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, রিফাত, ওয়াসিম আকরাম, আশরাফুল ইয়ামিন শান্ত, তানিম, ইরফানসহ দেড় হাজার ছাত্র, জনতা, শ্রমিক, দোকানদার অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছে। নির্বিচারে ও অকাতরে পিচাশের মত হত্যার লোমহর্ষক দৃশ্য অবলোকন করে জাতির সর্বস্তরের মানুষ দল, মত, ধর্ম,বর্ণ জাতি, সম্প্রদায় মানবতা বিধ্বংসের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে নেমে পড়ে, লক্ষ লক্ষ আবাল বৃদ্ধ বনিতার বাঁধভাঙ্গা ঢেউ আচড়ে পরে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া ও রূপসা থেকে পাটুরিয়া। মানুষের হৃদয় ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে পড়ছিল ; ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক শিক্ষিকা, অভিভাবক অভিভাবিকা, তরুণ -তরণী, যুবক-যুবতী, বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত, গণধিকার কেউ কারো ডাকের অপেক্ষা করেনি, দলে দলে পঙ্গপালের ন্যায় গুলি, বোমা, টিয়ার সেল, রাবার বুলেট, স্নাইপার ও শট গানের গুলি সবকিছুকে তুচ্ছ করে ফ্যাসিবাদের জগদ্দল পাথর হঠাতে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এটাকে গণ বিপ্লবে রূপ দেয়। স্বৈরাচারিনী ও খুনি হাসিনা বারংবার ক্ষমতা কুক্ষীগত রাখার পিছনে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে সাপোর্ট করেছে ও বেকিং দিয়েছে আমাদের তথাকথিত প্রতিবেশী নির্লজ্জ ভারত! দেশের সর্বস্তরের মানুষ পরিষ্কারভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, ভারতই আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু আমাদেরকে ঘিরে আছে! আমাদের দেশের অস্থিতিশীলতা, জাতিকে দ্বিধা-বিভক্ত করা, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণ, দেশের সকল সেক্টরে তথা রন্ধ্রে রন্ধ্রে গোয়েন্দা অপতৎপরতা আমাদেরকে বঞ্চিত ও নিষ্পেষিত করে যাচ্ছে ভারত প্রতিনিয়ত! তাই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র ছাত্রীদের যৌক্তিক দাবি আদায় করতে গিয়ে ভারতীয় পোষ্য ও অনুগত দাসী হাসিনাকে সরানোর প্রয়োজনে সবাই সকল ভেদাভেদ ভুলে যায়; এদেশে মানুষের মধ্যে যখন উপলব্ধি জাগরিত হয় তখন ভারতের পুতুল হাসিনাকে উৎখাত করতে যে কোন মূল্যে, তথা জান- মাল সবকিছু উৎসর্গ করে বাংলা প্রতিবাদের ঝড় তোলে এবং ভারতের ইশারায় চালিত শাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় এবং ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের গভীর থেকে যে উপলব্ধি তৈরি হয়েছে, ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির যে একপেশে ও প্রতিহিংসা পরায়ণ ও অবন্ধুসুলভ আচরণকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য মানুষের মধ্যে যে ঐক্য গড়ে উঠেছে এবং এই ঐক্য ও সংহতির যে বিপ্লব সাধিত হয়েছে তার বহিঃপ্রকাশ হলো ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে ঘটিত বিপ্লবী সরকার।

ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস জনগনের বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা উপলব্ধি করতে পারলেও হঠাৎ করে ক্ষমতার চেয়ার পেয়ে বসা কিছু উপদেষ্টা সেই উপলব্ধির কার্যকারিতা দেখাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন!

৫ আগস্ট বিপ্লব সফল হয় এবং স্বৈরাচারী ভারতীয় দালাল হাসিনা তার একমাত্র বন্ধু ও প্রভু দেশ ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখ ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস এর উপদেষ্টা গণের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। ১১ আগস্ট তারিখ প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ও উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার সচিবালয়ে ঘোষণা দেন যে, ‘ভারতে কোন ইলিশ রপ্তানি করা হবে না। তিনি যুক্তি ও তুলে ধরেন যে, দেশের মানুষ যাতে ইলিশ পায় এবং কম দামে ইলিশ খেতে পারে সে উদ্যোগ নেয়া হবে। দেশের মানুষ ইলিশ পাবেনা অথচ রপ্তানি করা হবে এটা হতে দেয়া যাবে না।’ উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার যে ঘোষণা দিয়েছেন তা সত্যিই আমাদের দেশের আপামর মানুষের বিপ্লবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যৌক্তিক ছিল। গণ মানুষের পক্ষ থেকে এটাকে সাদরে বরণ করে নিয়ে অনেক মানুষ পজেটিভ মন্তব্য দিয়েছিল ফেসবুকে তথা মিডিয়াতে।
কিন্তু বাণিজ্য উপদেষ্টা ডক্টর সালেহ উদ্দিন মৎস্য ও ফেসবুকে প্রথম মিডিয়া কিন্তু বাণিজ্য মাত্র প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার ১১ আগস্টের দেওয়া ঘোষণাকে তাচ্ছিল্য করে ২১ সেপ্টেম্বর ৩০০০ টন ইলিশ পাঠানোর অনুমোদন দিয়ে দেন!
ডক্টর সালেহ উদ্দিন সাহেব আপনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে কি করলেন জানেন?

(১) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা জনগণের আবেগ এবং পালস উপলব্ধি করে যে ঘোষণা দিলেন সেটাকে উপক্ষা বা তাচ্ছিল্য করলেন, আবার বললেন, এতে এমন কোন ক্ষতির কারণ হয়ে যায় নি, অর্থাৎ আপনি জনগণের আবেগের কারণে জনগণের আবেগের কারণে যে চেয়ার পেয়েছেন, সেই চেয়ারকেই অবজ্ঞা করলেন আর জনগণের পালস বা আবেগকে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন!

(২) রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের কারণে ক্ষমতা পেয়ে বিপ্লবকে অবমূল্যায়ন করলেন আর জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভারতীয় পণ্য বর্জন সহ ভারত পূজারী হাসিনাকে ঝােটিয়ে বিদায় করে যা বুঝাতে চাইলেন ডক্টর সালেহ উদ্দিন সাহেব তা বুঝলেন না!

(৩) অগণিত মানুষের হাত,পা,চোখ, কান সহ বিভিন্ন অঙ্গহানি করে, পঙ্গুত্ব বরণ করে, অর্থ দিয়ে এমনকি জীবন দিয়ে ভারতীয় আগ্রাসী মনোভাবের প্রতিবাদের যে বিদ্রোহী মনোভাব দেখিয়েছে উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন তা মোটেই আমলে নিলেন না।

(৪) পৃথিবীর সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান ও পরাশক্তি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যেখানে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সাথে সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন নের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ঘোষণা দিলেন, অথচ ভারতের সাম্প্রদায়িক, উগ্র-দাঙ্গাবাজ হিন্দুত্ববাদী মোদি, ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস এর সাথে বৈঠকে বসার ব্যাপারে অনিহা প্রকাশ করে অসৌজন্য মূলক মনোভাব এর নজির স্থাপন করেলো। আর অন্যদিকে বাণিজ্য উপদেষ্টা ডক্টর সালেহ উদ্দিন আহমেদ জনগণের সকল ক্ষোভ এর বিপরীতে অবস্থান নিয়ে ভারতকে উদারতা ও সৌজন্যতার এবং বদান্যতার প্রমাণ দিয়ে বসলেন! বলাবাহুল্য এতে পুরো বাংলাদেশের মানুষকে আপনি অপমানিত করলেন।

(৫)বিপ্লবের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে ভারতকে বার্তা দিয়ে দিয়েছে যে, আমাদেরকে দাস দাসী বানিয়ে আপনারা যে ও প্রভু গিরি করতে চান তা আমরা আর মেনে নেব না। আমরা একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভারতের সাথে প্রতিবেশী হিসেবে থাকতে চাই। আর আপনি জাতীয় সেন্টিমেন্ট এর পরিপন্থী হয়ে হাসিনার নতজানু নীতির পুনরাবৃত্তি করেছেন! তাই না? এমন আচরণ বিপ্লবের সাথে আদৌ সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

(৬) অতি ছোট্ট একটা উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে বর্তমান সরকার গঠিত হলেও ডক্টর মোহাম্মদ ইউনূসের কারণে বাংলাদেশের এই ছোট্ট বৈপ্লবিক সরকারের যে আকাশ চুম্বী ইমেজ বা মর্যাদা তৈরি হয়েছে আপনি সেটাকে নস্যাৎ করে দিলেন!
জনগণের আবেগের কারণেই আপনি চেয়ারে বসেছেন, বাণিজ্য উপদেষ্টা হয়েছেন, জনগণের এই আবেগকে মূল্যায়ন করে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেশটা ফরিদা আক্তারের দেওয়া ঘোষণাকে মর্যাদা দিয়ে এবারের মত ইলিশ না পাঠালে নিজেদের সমন্বয়হীনতার প্রকাশ ঘটতো না এবং পৃথিবীব্যাপী যে মর্যাদাবান সরকারের মর্যাদা সমুন্নত থাকতো আপনি কি সেটা বুঝতে পারেননি?

(৭) আপনি যুক্তি তুলে ধরেন ৫ লক্ষ ৩০ হাজার টন আমাদের ইলিশ উৎপাদনের তুলনায় সামান্য পরিমাণ ইলিশ পাঠালে এতে বড় কোন ক্ষতি হয়ে যায়নি। অথচ ভারতীয় লোকেরা প্রচার করে বেড়াচ্ছে মিডিয়া জগতে যে, আপনাদেরকে ধমক দেয়ার সাথে সাথে আপনারা দ্রুত ইলিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? এতে কি প্রমাণিত হয় না যে, আপনি বিপ্লবী সরকারকে তথা বাংলাদেশের জনগণ কে অপমানিত করেছেন!

(৮) আপনি কি দেখেননি আমাদের যখন পেঁয়াজের সংকট তখন তারা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাক আটকে দিয়েছে তবুও রপ্তানি বন্ধ রেখে আমাদেরকে ৪০/৫০ টাকা দামের পেঁয়াজ ৩০০ টাকায় কিনতে বাধ্য করেছে। আবার আমাদের যখন পেঁয়াজের সংকট নেই তথা চাহিদা নেই, তখন আমাদের দেশে পেঁয়াজ পাঠিয়ে দিয়ে দেশে কৃষকদেরকে পথের ফকির করে দিয়েছে! মাত্র কয়েকদিন আগে আপনি সালাউদ্দিন সাহেব কি দেখেননি আমাদের দেশে একনাগাড়ে বৃষ্টি আর বন্যা অথচ তারা বাঁধ ছেড়ে দিয়ে আমাদের কি পরিমান নাকানি সুবানি খাইয়েছে? কি পরিমাণ ফসল, গবাদি পশু, মৎস্য সম্পদ এমনকি মানবসম্পদ ভাসিয়ে দিয়ে অর্থনীতি ও মানবতার বারোটা বাজিয়েছে? আবার আমাদের যখন পানির অভাবে কৃষি কাজ করা যায় না তখন তারা উজান থেকে পানি আসা বন্ধ করে দিয়ে আমাদের দেশকে কিভাবে মরুভূমি তে পরিণত করে। যেই ভারত আমাদেরকে চতুর্মুখী আগ্রাসনের মাধ্যমে এভাবে বিপদগ্রস্ত করে, চেয়ারে বসতে না বসতেই সেই ভারত প্রেমে এত উদ্বেলিত হয়ে আপনি কি ডক্টর ইউনুসকে ওভারকাম করে ভারতের নিকট জনপ্রিয় হতে চান? ভারত তোষণ নীতি দিয়ে আর এটা করা যাবে না, ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা বোঝার চেষ্টা করুন; না হয় বিদায় নিতে হবে ঠিকই, কিন্তু মান সম্মান আমলা গিরি করে যতটুকু করেছেন তা খোয়াতেই হবে। আমরা যেখানে আশা করেছিলাম ৪০ থেকে ৫০ জনের উপদেষ্টা নিয়ে এই বিপ্লবী সরকারটি গঠিত হবে এবং একটা লম্বা সময় দেশে সংস্কারের ভূমিকা রেখে আপনারা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম করবেন; কিন্তু অল্প কয়েকজনের একটা ছোট্ট পরিষদের মধ্যে এত সমন্বয়হীনতা? এটাতো আশায় গুড়েবালি বৈ কি?