০২:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্প এলাকায় অবৈধ ভোগ্যপন্য কারখানা।

  • প্রকাশিত ০৬:২১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪
  • ১১১ বার দেখা হয়েছে

 

মোঃ ইউছুফ ভূঁইয়া, কুমিল্লা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিসিক শিল্প এলাকায় বে-ফুড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড নামে একটি কারখানায় অবৈধভাবে বে বেকার্স নামে শিশু ও রোগীর খাদ্য, ব্রেড, মিষ্টি ও বিস্কুট তৈরি করে বিপনন করা হচ্ছে। যাতে বি,এস,টি,আই সনদ নিয়ে খাদ্য পন্যের পেকটের উপর লগো দেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা না করেই বাজারজাত করা হচ্ছে।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সংবাদ কর্মীরা সংবাদ সংগ্রহে কারখানায় গেলে দেখা যায়,

বে-বেকার্স এর ভিতরে প্রবেশ করে একজন কর্মরত শ্রমিকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সংবাদ কর্মীগন কারখানার পরিবেশ ভিডিও ধারণ কালে দেখা যায় ৩/৪ প্রকারের মেয়াদ উত্তীর্ণ বিস্কুট, পাউরুটি, সন্দেহ জনক ভাবে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ মুছে নতুন প্রোডাক্টসের সাথে পুনরায় অবৈধভাবে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রেকে সাজিয়ে রাখা হয়। এই বিষয়ে জানতে চাইলে কারখানার কোন ব্যক্তি উত্তর না দিয়ে ফেক্টরীর ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে রাফসান নামে এক ব্যক্তি অশোভন আচরণ করে।

দেখা যায়, কারখানার অভ্যান্তরে অত্যান্ত নোংরা ময়লা পরিবেশে ও শ্যাতশ্যাতে অবস্থায় এইসব খাদ্যপন্য তৈরি করা হচ্ছে। রোগ ছড়ানো মাছি ভনভন করছে, কোন শ্রমিকের হাতেই হাতমোজা, মাথায় টুপি, মুখে মাক্স ব্যবহার করতে দেখা যায় নি।
খাদ্যপন্যের যথাযথ মান অনুসন্ধানে দেখা যায় দধি সংরক্ষণে রাখা একই ফ্রিজে আলু,টমেটো, গাজর, পেঁপে, কাঁচাকলা সহ যাবতীয় শাকসবজী রাখা হয়েছে । বিভিন্ন ধরনের সস তৈরির উপাদানও পাওয়া যায়। শুধু তাই নয় ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহার করা রং ও ফ্রিজে সংরক্ষণ করা আছে যাহা কেমিস্টের অনুপস্থিতিতেই ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মানুষের স্ব্যাস্থের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ন। খাদ্য পন্যে এই সব ক্যমিকেল বা রঙের অপরিকল্পিত ব্যবহার শরীরে জটিল রোগ তৈরি যেমন ক্যান্সার, চর্মরোগ ও ফুসফুসে আলসার সৃষ্টি হতে পারে।

কয়েকটি খাদ্য পন্যের গায়ে বিএসটিআইয়ের লগো সিলমোহর থাকলেও বিএসটিআইয়ের অনুমোদন পত্র বা সনদ দেখাতে পারেননি।
সরকারি বিধি মোতাবেক খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানায় খাদ্য মান নিয়ন্ত্রণ যাচাই-বাছাইয়ে কেমিস্ট থাকার কথা থাকলেও এখানে কারিগর কেই কেমিস্ট বলে পরিচয় দেন।

জানা যায় বিকালে ও রাতে বে-বেকার্স কারখানায় মাদকের আসরও বসে এবং মধ্যরাত পর্যন্ত লোকজনের আনাগোনা দেখা যায় বলে পাশ্ববর্তী কারখানার লোকজনের কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়।

সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে মোহাম্মদ নওসাদ নামে একজন এসে সংবাদকর্মী দের মারধরের হুমকি ও অশোভন আচরণ করেন পরে জানা যায় তিনি বে-বেকার্স কারখানার ম্যানেজার, গ্রামের বাড়ী পাঁচরা, তিনি মালিকের শ্যালক।

এ বিষয়ে বে- বেকার্স এর স্বত্বাধিকারী মীর হোসেন মোল্লা তার সঠিক নাম গোপন করে মোহাম্মদ বাবলু নামে পরিচয় দিয়ে ফোনে বলেন, এসব বিষয়ে সাংবাদিক কে তথ্য দিতেআমি বাধ্য নই।
চৌদ্দগ্রাম পৌর সভার খাদ্য পন্য মান পরিদর্শক সজীব বলেন, আমি গত মাসে এই কারখানা পরিদর্শন করছি এবং তাদের কয়েকটি পন্য উৎপাদনের অনুমতি থাকলেও রসমালাই তৈরির কোন অনুমোদন নেই।

কুমিল্লা বিএসটিআই উপপরিচালক কে এম হানিফ বলেন, এই কারখানার কিছু পন্য বিএসটিআই অনুমোদন আছে, তবে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া পন্য তৈরি ও বিপণন অবৈধ। এই কারখানায় পূর্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা করে সতর্ক করা হয়, এবং পুনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্প এলাকায় অবৈধ ভোগ্যপন্য কারখানা।

প্রকাশিত ০৬:২১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪

 

মোঃ ইউছুফ ভূঁইয়া, কুমিল্লা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিসিক শিল্প এলাকায় বে-ফুড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড নামে একটি কারখানায় অবৈধভাবে বে বেকার্স নামে শিশু ও রোগীর খাদ্য, ব্রেড, মিষ্টি ও বিস্কুট তৈরি করে বিপনন করা হচ্ছে। যাতে বি,এস,টি,আই সনদ নিয়ে খাদ্য পন্যের পেকটের উপর লগো দেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা না করেই বাজারজাত করা হচ্ছে।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সংবাদ কর্মীরা সংবাদ সংগ্রহে কারখানায় গেলে দেখা যায়,

বে-বেকার্স এর ভিতরে প্রবেশ করে একজন কর্মরত শ্রমিকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সংবাদ কর্মীগন কারখানার পরিবেশ ভিডিও ধারণ কালে দেখা যায় ৩/৪ প্রকারের মেয়াদ উত্তীর্ণ বিস্কুট, পাউরুটি, সন্দেহ জনক ভাবে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ মুছে নতুন প্রোডাক্টসের সাথে পুনরায় অবৈধভাবে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রেকে সাজিয়ে রাখা হয়। এই বিষয়ে জানতে চাইলে কারখানার কোন ব্যক্তি উত্তর না দিয়ে ফেক্টরীর ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে রাফসান নামে এক ব্যক্তি অশোভন আচরণ করে।

দেখা যায়, কারখানার অভ্যান্তরে অত্যান্ত নোংরা ময়লা পরিবেশে ও শ্যাতশ্যাতে অবস্থায় এইসব খাদ্যপন্য তৈরি করা হচ্ছে। রোগ ছড়ানো মাছি ভনভন করছে, কোন শ্রমিকের হাতেই হাতমোজা, মাথায় টুপি, মুখে মাক্স ব্যবহার করতে দেখা যায় নি।
খাদ্যপন্যের যথাযথ মান অনুসন্ধানে দেখা যায় দধি সংরক্ষণে রাখা একই ফ্রিজে আলু,টমেটো, গাজর, পেঁপে, কাঁচাকলা সহ যাবতীয় শাকসবজী রাখা হয়েছে । বিভিন্ন ধরনের সস তৈরির উপাদানও পাওয়া যায়। শুধু তাই নয় ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহার করা রং ও ফ্রিজে সংরক্ষণ করা আছে যাহা কেমিস্টের অনুপস্থিতিতেই ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মানুষের স্ব্যাস্থের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ন। খাদ্য পন্যে এই সব ক্যমিকেল বা রঙের অপরিকল্পিত ব্যবহার শরীরে জটিল রোগ তৈরি যেমন ক্যান্সার, চর্মরোগ ও ফুসফুসে আলসার সৃষ্টি হতে পারে।

কয়েকটি খাদ্য পন্যের গায়ে বিএসটিআইয়ের লগো সিলমোহর থাকলেও বিএসটিআইয়ের অনুমোদন পত্র বা সনদ দেখাতে পারেননি।
সরকারি বিধি মোতাবেক খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানায় খাদ্য মান নিয়ন্ত্রণ যাচাই-বাছাইয়ে কেমিস্ট থাকার কথা থাকলেও এখানে কারিগর কেই কেমিস্ট বলে পরিচয় দেন।

জানা যায় বিকালে ও রাতে বে-বেকার্স কারখানায় মাদকের আসরও বসে এবং মধ্যরাত পর্যন্ত লোকজনের আনাগোনা দেখা যায় বলে পাশ্ববর্তী কারখানার লোকজনের কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়।

সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে মোহাম্মদ নওসাদ নামে একজন এসে সংবাদকর্মী দের মারধরের হুমকি ও অশোভন আচরণ করেন পরে জানা যায় তিনি বে-বেকার্স কারখানার ম্যানেজার, গ্রামের বাড়ী পাঁচরা, তিনি মালিকের শ্যালক।

এ বিষয়ে বে- বেকার্স এর স্বত্বাধিকারী মীর হোসেন মোল্লা তার সঠিক নাম গোপন করে মোহাম্মদ বাবলু নামে পরিচয় দিয়ে ফোনে বলেন, এসব বিষয়ে সাংবাদিক কে তথ্য দিতেআমি বাধ্য নই।
চৌদ্দগ্রাম পৌর সভার খাদ্য পন্য মান পরিদর্শক সজীব বলেন, আমি গত মাসে এই কারখানা পরিদর্শন করছি এবং তাদের কয়েকটি পন্য উৎপাদনের অনুমতি থাকলেও রসমালাই তৈরির কোন অনুমোদন নেই।

কুমিল্লা বিএসটিআই উপপরিচালক কে এম হানিফ বলেন, এই কারখানার কিছু পন্য বিএসটিআই অনুমোদন আছে, তবে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া পন্য তৈরি ও বিপণন অবৈধ। এই কারখানায় পূর্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা করে সতর্ক করা হয়, এবং পুনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।