১২:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চিতার আগুনে বসবাস”

  • প্রকাশিত ১০:২৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ১৭৭ বার দেখা হয়েছে

চিতার আগুনে বসবাস”

আব্দুল্লাহ আল মামুন ।
“””””””””” ””””””””””””””””””””””””

আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে—
আমার অনেক কষ্ট–
আর্তি টুকু শোন আমার চেয়ে—
পৃথিবীর সমস্ত ঝড়ো হাওয়া
আমার পাজর দিয়েছে ভেংগে
এখন আছি ভাষানটেক নগ্ন বস্তিতে
কামড় খেয়ে খেয়ে—
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে ।
প্রথম যেদিন মা আমাকে —
এখানে এলেন নিয়ে–
বুভুক্ষু মানুষের চোখ গুলো যেন —
ছিল তাঁকিয়ে —
কোথা থেকে এলাম
ক”দিনই বা থাকব নানাবিধ প্রশ্নে—
জর্জরিত আমাদেরকে নিয়ে—
মার শরীরে তখন উপছে পরা যৌবন– সবুজের পৃৃথিবী দেখছি অনবরত—
আমি তখন বছর ন”য়ে—-
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে ।
আগামি দিনের ভাবনা গুলো চুলোয় যাক —-
এখন বাঁচব কি করে— থাকব কি খেয়ে ।
ডিপ্ ডিপ্ করে চেয়ে থাকা —
মানুষ গুলো মাকে দেখছে–
মা”র শরীরে গোস্ত আর গোস্ত
যেন অনুমানে মাপছে —
আমি তখন—- সবেমাত্র ন”য়ে —-
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে—-।
রাত দুপরে —
শেয়ালের দাঁত খিছানোর কটর মটর শব্দ
থাকি ঝুপড়ি ঘরে —সন্ধ্যা— হলেই ,
আদর বাড়ে—
আমরা দু”জন মানুষ —
মা আর মেয়ে ,
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে ।
আমাদের ঘর ভর্তি দুধের মাছি
আদরের কমতি নেই ,
ঘুটঘুটে অন্ধকার —
ফিসফিসানি শব্দ আসে—
তৃতীয় ব্যাক্তির উপস্হিতি টের পাই —
মাকে শুুধাই—
মা বলে তোর বাবা— দেখনা চেয়ে—
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে—-।
প্রতিরাতে নতুন নতুন মেহমান আসে ,
মা বলে তোর বাবা
আচ্ছা মা ! তবে তো —
আমার অনেক গুলো বাবা—
আমাদের এত কষ্ট কিসের—?
তারপর প্রতিনিয়তঃ বাজার আসে —
ঘর ভর্তি বাজার ,
আমাদের আর অভাব কিসের—-?
ঔষধ , দামি খাবার কিন্ত মা !
রাত বিরাতে একাকি কাঁদে–
সন্ধ্যা— হলেই সাজে —
আলতা রঙাঁ পায়ে পায়চারী করে ।
রাত গভীরে নতুন বাবা আসে —
মা কাঁদে সুখে নাকি অসুখে !
ইচ্ছে করে লোকটিকে জাপটে ধরি–
মা কেন কাঁদে–
ছুরি বসিয়ে দেই তার বুকে পিঠে ,
লাথি মারি তার নিতম্বে ,
তাঁকিয়ে থাকি অবাক বিস্ময়ে —
আর কাঁদি একাকি চেয়ে চেয়ে ,
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে—-।
ভভদ্রবেশী মুখোশ গুলো এড়িয়ে চলে , বাবা বাবা ডাক গুলো মিলিয়ে যায় ,
ক্লান্তি পথে—-
চারিদিকে মানুষের চিৎকার আর ধীক্কার —-
আমি বেশ্যার মেয়ে , আমি বেশ্যার মেয়ে ,
আমি নগ্ন পথের চুড়াগলি যাচ্ছি ধেয়ে ,
আমি জুবিলী ঘাটের বেশ্যার মেয়ে ,—– ।
আমি উচ্ছিষ্ট , নিকৃষ্ট ধীকৃত এই সমাজে ,
বেড়ার ঘরের খিড়কি দিয়ে ,
প্রবল ভাবে দুঃখ ঢুকে–
সন্ধা হলেই রাত বিরাতে ,
বাহারী রংয়ের বাজার আসে —-
আমাদের আবার দুঃখ কিসের ?
একদিন এক নতুন বাবা
নিয়ে গেলেন তার বাড়ীতে —-
মুষ্ঠিবদ্ধ সে হাত শহর ঘুরে দেখালেন , নীলাকাশে চড়ালেন , ঘুরালেন ,
স্নিগ্ধ আবেশে এ কাঁধে ,
হাত দুটো রাখলেন ,
সেদিন একজন বাবার পরিপুর্ন —
স্বাদ পেলাম হৃদয়ে ।
ইয়া আলিশান বাড়ী , বিশাল করিডোর , বারান্দা , মেঝে কার্পেট ,
সেখানে সুখ আর সুখ কিলবিল করে —
সুখের সুধা গন্ধে ভরে গেল মন।।
প্রথম দিনে আমার কাজ —
নরম তুলতুলে হাতে–
বাবার শরীর মাথা কপোল —
টিপে দিতে হবে–রক্ত রঙাঁ চোখ ,
চারিদিকে লোহার খুন্তি ,
আগুনের মত দাউদাউ করে ,
আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অতটুকু বয়স স্নেহের হাতছানিতে
তাই করছি — কিন্ত— একি !
বাবা এমন করছে কেন–
তবে কি বাবার শরীরে জ্বর ,
অদ্ভুত ব্যপার , অদ্ভুত আবদার ,
আচ্ছা ! বাবা হলেই কি তার
সমস্ত অঙঁ ছুয়ে দিতে হয়– ?
প্রবল জোড়ে হাত দুটো ছাড়িয়ে
অন্ডকোষে লাথি কষিয়ে—
এক দৌড়ে গেটের বাইরে —
দুরে বহুদুরে গেছি হারিয়ে –
একাকি অসহায়ের মত কাঁদছি ,
আমি তোমাদেরই মেয়ে ,
আমি মময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে ।
আমার সবই আছে , আমার মা —
অনেক গুলো বাবা ,
এই সমাজ — একটি স্বাধীনতার পতাকা,
একটি মানচিত্র আছে চেয়ে ,
অযথাই দু”চোখের জল ,
গড়িয়ে পড়ে অবিরল–
স্রোতের মত আসছে দেখ ধেয়ে ,
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে ।
আমার চোখ এখনও দিগন্ত জোড়া, প্রকৃতির স্বপ্ন দেখে–
সবুজে সবুজে চেয়ে থাকে ,
হৃদয় নাচে সোনালী রংয়ে
আমি বাঁচতে চাই —
আর্তি টুকু শোন আমার চেয়ে—
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে ।
আমি অসহায়– কাঁদছি —
ফার্মগেটের ব্যাস্ততম রাস্তায়—
ঘরমুখো মানুষের উপছে পড়া ভীড় ,
শরীর টুকু ছুঁতে চায় ,
ওদের শরীরে উত্তপ্ত কামনার আগুন —
হিরোশিমার মত জ্বলছে দ্বিগুন — —
আমাকে ছিড়ে খাবে উম্মাদনার শকুন–
আমি বাঁচতে চাই —
আমার আর্তি টুকু শোন একটুকু এগিয়ে ,
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে ।
আমরা পুড়ে যাই —
চিতার আগুনে কারো আড়ম্বরে ,
উম্মাদনার সমস্ত লালা ,
আমাদের গায়ে পরে ।
অস্তিত্বহীন এ পৃথিবীতে —
আমারই মত আর কে বা আছে ?
দেখো না , একটুকু চেয়ে ,
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে ।
আমি শ্মশানের আগুনে পুড়ে ছাই ভস্ম ,
লালসা শিকারীদের হাতে অতৃপ্ত স্পর্শ ।
চিতার আগুনে সহবাস–পুড়ছে দেখ–
আমাদের মা মেয়ের বসবাস

Tag :
জনপ্রিয়

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বার বার সড়ক দুর্ঘটনার লোমহর্ষ রহস্য ও কারণ

চিতার আগুনে বসবাস”

প্রকাশিত ১০:২৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪

চিতার আগুনে বসবাস”

আব্দুল্লাহ আল মামুন ।
“””””””””” ””””””””””””””””””””””””

আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে—
আমার অনেক কষ্ট–
আর্তি টুকু শোন আমার চেয়ে—
পৃথিবীর সমস্ত ঝড়ো হাওয়া
আমার পাজর দিয়েছে ভেংগে
এখন আছি ভাষানটেক নগ্ন বস্তিতে
কামড় খেয়ে খেয়ে—
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে ।
প্রথম যেদিন মা আমাকে —
এখানে এলেন নিয়ে–
বুভুক্ষু মানুষের চোখ গুলো যেন —
ছিল তাঁকিয়ে —
কোথা থেকে এলাম
ক”দিনই বা থাকব নানাবিধ প্রশ্নে—
জর্জরিত আমাদেরকে নিয়ে—
মার শরীরে তখন উপছে পরা যৌবন– সবুজের পৃৃথিবী দেখছি অনবরত—
আমি তখন বছর ন”য়ে—-
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে ।
আগামি দিনের ভাবনা গুলো চুলোয় যাক —-
এখন বাঁচব কি করে— থাকব কি খেয়ে ।
ডিপ্ ডিপ্ করে চেয়ে থাকা —
মানুষ গুলো মাকে দেখছে–
মা”র শরীরে গোস্ত আর গোস্ত
যেন অনুমানে মাপছে —
আমি তখন—- সবেমাত্র ন”য়ে —-
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে—-।
রাত দুপরে —
শেয়ালের দাঁত খিছানোর কটর মটর শব্দ
থাকি ঝুপড়ি ঘরে —সন্ধ্যা— হলেই ,
আদর বাড়ে—
আমরা দু”জন মানুষ —
মা আর মেয়ে ,
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে ।
আমাদের ঘর ভর্তি দুধের মাছি
আদরের কমতি নেই ,
ঘুটঘুটে অন্ধকার —
ফিসফিসানি শব্দ আসে—
তৃতীয় ব্যাক্তির উপস্হিতি টের পাই —
মাকে শুুধাই—
মা বলে তোর বাবা— দেখনা চেয়ে—
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে—-।
প্রতিরাতে নতুন নতুন মেহমান আসে ,
মা বলে তোর বাবা
আচ্ছা মা ! তবে তো —
আমার অনেক গুলো বাবা—
আমাদের এত কষ্ট কিসের—?
তারপর প্রতিনিয়তঃ বাজার আসে —
ঘর ভর্তি বাজার ,
আমাদের আর অভাব কিসের—-?
ঔষধ , দামি খাবার কিন্ত মা !
রাত বিরাতে একাকি কাঁদে–
সন্ধ্যা— হলেই সাজে —
আলতা রঙাঁ পায়ে পায়চারী করে ।
রাত গভীরে নতুন বাবা আসে —
মা কাঁদে সুখে নাকি অসুখে !
ইচ্ছে করে লোকটিকে জাপটে ধরি–
মা কেন কাঁদে–
ছুরি বসিয়ে দেই তার বুকে পিঠে ,
লাথি মারি তার নিতম্বে ,
তাঁকিয়ে থাকি অবাক বিস্ময়ে —
আর কাঁদি একাকি চেয়ে চেয়ে ,
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে—-।
ভভদ্রবেশী মুখোশ গুলো এড়িয়ে চলে , বাবা বাবা ডাক গুলো মিলিয়ে যায় ,
ক্লান্তি পথে—-
চারিদিকে মানুষের চিৎকার আর ধীক্কার —-
আমি বেশ্যার মেয়ে , আমি বেশ্যার মেয়ে ,
আমি নগ্ন পথের চুড়াগলি যাচ্ছি ধেয়ে ,
আমি জুবিলী ঘাটের বেশ্যার মেয়ে ,—– ।
আমি উচ্ছিষ্ট , নিকৃষ্ট ধীকৃত এই সমাজে ,
বেড়ার ঘরের খিড়কি দিয়ে ,
প্রবল ভাবে দুঃখ ঢুকে–
সন্ধা হলেই রাত বিরাতে ,
বাহারী রংয়ের বাজার আসে —-
আমাদের আবার দুঃখ কিসের ?
একদিন এক নতুন বাবা
নিয়ে গেলেন তার বাড়ীতে —-
মুষ্ঠিবদ্ধ সে হাত শহর ঘুরে দেখালেন , নীলাকাশে চড়ালেন , ঘুরালেন ,
স্নিগ্ধ আবেশে এ কাঁধে ,
হাত দুটো রাখলেন ,
সেদিন একজন বাবার পরিপুর্ন —
স্বাদ পেলাম হৃদয়ে ।
ইয়া আলিশান বাড়ী , বিশাল করিডোর , বারান্দা , মেঝে কার্পেট ,
সেখানে সুখ আর সুখ কিলবিল করে —
সুখের সুধা গন্ধে ভরে গেল মন।।
প্রথম দিনে আমার কাজ —
নরম তুলতুলে হাতে–
বাবার শরীর মাথা কপোল —
টিপে দিতে হবে–রক্ত রঙাঁ চোখ ,
চারিদিকে লোহার খুন্তি ,
আগুনের মত দাউদাউ করে ,
আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অতটুকু বয়স স্নেহের হাতছানিতে
তাই করছি — কিন্ত— একি !
বাবা এমন করছে কেন–
তবে কি বাবার শরীরে জ্বর ,
অদ্ভুত ব্যপার , অদ্ভুত আবদার ,
আচ্ছা ! বাবা হলেই কি তার
সমস্ত অঙঁ ছুয়ে দিতে হয়– ?
প্রবল জোড়ে হাত দুটো ছাড়িয়ে
অন্ডকোষে লাথি কষিয়ে—
এক দৌড়ে গেটের বাইরে —
দুরে বহুদুরে গেছি হারিয়ে –
একাকি অসহায়ের মত কাঁদছি ,
আমি তোমাদেরই মেয়ে ,
আমি মময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে ।
আমার সবই আছে , আমার মা —
অনেক গুলো বাবা ,
এই সমাজ — একটি স্বাধীনতার পতাকা,
একটি মানচিত্র আছে চেয়ে ,
অযথাই দু”চোখের জল ,
গড়িয়ে পড়ে অবিরল–
স্রোতের মত আসছে দেখ ধেয়ে ,
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে ।
আমার চোখ এখনও দিগন্ত জোড়া, প্রকৃতির স্বপ্ন দেখে–
সবুজে সবুজে চেয়ে থাকে ,
হৃদয় নাচে সোনালী রংয়ে
আমি বাঁচতে চাই —
আর্তি টুকু শোন আমার চেয়ে—
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে ।
আমি অসহায়– কাঁদছি —
ফার্মগেটের ব্যাস্ততম রাস্তায়—
ঘরমুখো মানুষের উপছে পড়া ভীড় ,
শরীর টুকু ছুঁতে চায় ,
ওদের শরীরে উত্তপ্ত কামনার আগুন —
হিরোশিমার মত জ্বলছে দ্বিগুন — —
আমাকে ছিড়ে খাবে উম্মাদনার শকুন–
আমি বাঁচতে চাই —
আমার আর্তি টুকু শোন একটুকু এগিয়ে ,
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে ।
আমরা পুড়ে যাই —
চিতার আগুনে কারো আড়ম্বরে ,
উম্মাদনার সমস্ত লালা ,
আমাদের গায়ে পরে ।
অস্তিত্বহীন এ পৃথিবীতে —
আমারই মত আর কে বা আছে ?
দেখো না , একটুকু চেয়ে ,
আমি ময়মনসিংহ জুবিলী ঘাটের একটি মেয়ে ।
আমি শ্মশানের আগুনে পুড়ে ছাই ভস্ম ,
লালসা শিকারীদের হাতে অতৃপ্ত স্পর্শ ।
চিতার আগুনে সহবাস–পুড়ছে দেখ–
আমাদের মা মেয়ের বসবাস