বর্তমান দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, আর্থিক লেনদেনের সূতিকাগার ব্যাংকিং সেক্টর সর্বাধিক অর্থ সংকটে নিমজ্জিত। বিভিন্ন ব্যাংক গ্রাহকদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা যায় রিজার্ভ সংকটের কারণে ব্যাংক সমূহ গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থ থেকে ২/১ লাখ টাকা এমন কি কোন কোন ক্ষেত্রে ৫/১০ হাজার টাকাও গ্রাহককে দিতে অপারগতা প্রকাশ করছে।
এক ভুক্তভোগী গ্রাহক খেলাফত হোসেনের জবানিতে জানা যায়, তিনি গত ৫-৯-২০২১ তারিখে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ভালুকা শাখায় যথাক্রমে ২০০০ টাকা ও ৫০০০ টাকার দুটি স্বল্প মেয়াদী (৩ বছর মেয়াদি ) ডিপিএস একাউন্ট চালু করেন। যাহার একাউন্ট নম্বর যথাক্রমে ১৬৮৩৪১০০০০১১৯৬ ও ১৬৮৩৪১০০০০১১৯৭।
গত ০৫-০৯-২০২৪ তারিখে উক্ত একাউন্ট দু’টির মেয়াদ পরিপূর্ণ হয়। যার জমা এবং লাভ সহ সর্বসাকুল্যে অর্থের পরিমান দাড়িয়েছে ২,৭৮,০০০/-(দুই লক্ষ আটাত্তর হাজার টাকা)। সংশ্লিষ্ট গ্রাহক গত ৮/১০/২০২৪ তারিখে ডিপিএস দুটি ক্লোজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ ব্যাপারে তিনি ব্যাংকের শরণাপন্ন হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ব্যাংকে কোন টাকা নেই এবং এই মুহূর্তে ডিপিএস ক্লোজ করা যাবে না বলে জানান। কবে নাগাদ টাকা পাওয়া যাবে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজার নির্ধারিত কোনো তারিখ জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন, অতঃপর গ্রাহকের দাবির মুখে আগামী ১৬ তারিখ অর্থাৎ ১৬/১০/২০২৪ তারিখে আংশিক অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে ১৬/১০/২০২৪ তারিখে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক পুনরায় ব্যাংকে গেলে তাকে জানানো হয়, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যাংক কোন প্রকার ডিপিএস কিংবা এফডিআর এর টাকা ফেরত দিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, সুতরাং এই মুহূর্তে আপনাকে আমরা টাকা দিতে পারবো না, বরং আপনি উক্ত টাকা ১০০ দিনের জন্য এফডিআর করে আমাদের কাছে রেখে দিতে পারেন, তবে ঠিক ১০০ দিন পরে এফ ডি আর ভেঙে টাকা দিতে পারবেন কিনা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার সাহেব কোনো নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন । বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা ম্যানেজারের সঙ্গে কথা হলে তিনিও বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন।
একই শাখায় অ্যাকাউন্ট রয়েছে আব্দুর রউফ নামে এক গ্রাহকের। অন্য কোন একটি ব্যাংক শাখা হতে তার একাউন্টে ৬০০০০/-(ষাট হাজার টাকা) ট্রান্সফার করা হলেও উক্ত টাকা উত্তোলনের জন্য গেলে তাকে মাত্র ১০ হাজার টাকা নগদ দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ৫০ হাজার টাকা আগামী মাসের ১ তারিখে ( অন্তত ২০দিন পরে) দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা ম্যানেজার। অন্য আরেকটি ঘটনা থেকে জানা যায় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মাওনা শাখার একাধিক গ্রাহক টাকা তুলতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং যথাসময়ে টাকা পাননি বলে জানান। কেউ কেউ জানান তাদেরকে নভেম্বর মাসের ১/২ তারিখে টাকা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা। তবে তাও আংশিক । একজন গ্রাহকের নিশ্চিত নির্ভরতার জায়গা ব্যাংক, যেখান থেকে গ্রাহক তার সুবিধাজনক সময়ে তার গচ্ছিত অর্থ উত্তোলন সাপেক্ষে তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক অথবা সামাজিক সমস্যার আর্থিক সমাধান করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যাংক যদি গ্রাহকের প্রয়োজনে যথা সময়ে চাহিদা মোতাবেক আর্থিক লেনদেনে ব্যর্থ হয়, তবে অবশ্যই সাধারণ জনগণ ব্যাংকের সাথে লেনদেন করতে নিরুৎসাহিত হবে এবং হচ্ছে। যা সত্যি সত্যিই ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য একটি অশনি সংকেত।