চট্টগ্রাম বায়েজিদ লিংক রোডের পাশেই অবস্থিত জালালাবাদ তালিমুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানা। এটি পূর্ণাঙ্গ একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান যেখানে রয়েছে হেফজ বিভাগ, নূরানী বিভাগ, কিতাব বিভাগ, মোতফার্রাকা বিভাগ, মহিলা হেফজ বিভাগ ও মহিলা কিতাব বিভাগ সহ সব ধরনের শিক্ষার সুব্যবস্থা। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় অর্থের অভাবে এই মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হচ্ছে না। যেখানে বাচ্চারা অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। বর্তমানে মাদ্রাসার টিন গুলো একেবারে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাহত হচ্ছে।
এত কষ্টে থাকার পরেও গত ২১শে আগস্ট রোজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে কিছু দুর্বৃত্তরা মাদ্রাসার রান্নাঘরে ঢুকে এক মাসের মজুদ করা খাদ্য চুরি করে নিয়ে যায়। এতে মাদ্রাসা শিক্ষক শিক্ষার্থী সহ মাদ্রাসার সহকারী পরিচালকরা খুবই ভেঙে পড়েন। সোশ্যাল মিডিয়ার বদলতে এই ঘটনাটি চারদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এলাকাবাসী সহ আশপাশের সবাই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।এর ফলে এলাকাবাসী এবং সামাজিক উন্নয়ন মূলক একটি সংস্থা এই এতিম শিশুদের পাশে এসে দাঁড়ায়।
মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক হাফেজ মাওলানা ছলিম উল্লাহ আমাদের বলেন, আমি অত্র মাদ্রাসায় দীর্ঘ ২০ বছর সেবায় নিয়োজিত রয়েছি। আমাদের এই মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা নিয়ে শতশত শিক্ষার্থী দেশের নানা প্রান্তে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ি সবুজ মনোরোম একটি পরিবেশে আমাদের মাদ্রাসাটি পড়াশোনার জন্য অনেক উপযোগী। আমাদের মাদ্রাসায় আমরা কোন মাসিক কালেকশন করি না। আমাদের এখানে আবাসিক অবস্থায় ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাছাড়া আবাসিক এবং অনাবাসিক সবমিলিয়ে টোটাল প্রায় ৩০০’র মত ছাত্রছাত্রী আমাদের এখানে রয়েছে। তবে মাদ্রাসার বিভিন্ন সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনেক ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে মাদ্রাসাটি সংস্কার করা অতিব জরুরী হয়ে পড়েছে। মাদ্রাসার টিন গুলো সব নষ্ট হয়ে পড়েছে তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং থাকায় অনেক দুর্ভোগ ফুহাতে হচ্ছে। এত কষ্টের মাঝেও গত ২১শে আগস্ট রোজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর অতি হতাশা জনক এবং নেক্কারজনক এক ঘটনা ঘটে। আমরা মাসের শুরুতে পুরো মাসের খাদ্য মজুদ করে রাখি। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর মাদ্রাসার রান্নাঘর থেকে দুর্বৃত্তরা সব খাদ্য চুরি করে নিয়ে যায়। এতে করে মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষার্থী সহ আমরা খুবই হতাশ হয়ে পড়ি। সোশ্যাল মিডিয়ার বদলতে ঘটনাটি অতি দ্রুত সব দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে এলাকাবাসী সহ সবাই এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এবং সমাজ উন্নয়নমূলক একটি সংস্থা থেকে আমাদের কিছু খাদ্যের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। এখন খাদ্যের পাশাপাশি আমাদের মাদ্রাসার বাসস্থান সংস্কার করা অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে। তাই আমি আমার মাদ্রাসার পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর উদার্ত আহবান জানাই।