১১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
স্বাধীন দাস গোবিন্দগঞ্জ গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গোবিন্দগঞ্জে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিম্নমানের ধান-চাল সংগ্রহ করায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের অপসরণের দাবী

  • প্রকাশিত ০৭:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ নভেম্বর ২০২৪
  • ৭২ বার দেখা হয়েছে

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাধীন কামদিয়া খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করতে নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন কৃষকরা ।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায় গত বোরো মৌসুমে ২০২৪ অর্থ-বছরে অভ্যন্তরিন ইরি-রোরো ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা সিদ্ধ চাল ১১ হাজার ৫৭৪ মেঃ টন, আতপ চাল ৭ শ ৬ মেঃ টন ও ধান ২৯শ ৯৭ মেঃ টন নির্ধারন করেন খাদ্য মন্ত্রনালয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৩ টি গুদামে সিদ্ধ চাল সংগ্রহ হয়েছে ৯ হাজার ৭০ মেঃ টন, আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে ১শ ৪৫ মেঃ টন ও ধান সংগ্রহ হয়েছে ২ হাজার ৪ শ ৬৭ মেঃ টন। অবশিষ্ট সিদ্ধ চাল ২ হাজার ৫ শ ৪ মেঃ টন, আতপ চাল ৫ শ ৬১ মেঃ টন ও ধান ৫ শ ৩০ মেঃ টন সংগ্রহ না হওয়ায় গুদাম কর্মকর্তাগন কয়েকজন মিলারের সঙ্গে গোপন আতাতের মাধ্যমে ওই সব ধান ও চাল ক্রয় ও ক্রাসের নামে মিলারদের বরাদ্ধ দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয় গুদাম কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। গুদাম কর্মকর্তা আসাদুজ্জামন যোগদানের পর থেকেই প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল ক্রয় না করে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করছেন নি¤œমানের ধান-চাল। ফলে কৃষক তার উৎপাদিত ধান-চালের সরকার নির্ধারিত বাজার মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে লোকসান গুনছেন। শুধু তাই নয়, সরকারি গুদাম থেকে সরবরাহ করা চালের বস্তায় পরিমাণে কম দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

গুদামের সব অনিয়ম বন্ধ করে সুষ্ঠুভাবে নিয়ম অনুযায়ী খাদ্য গুদামের কার্যক্রম পরিচালনা এবং ওই কর্মকর্তার অপসারণ চেয়ে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও মিল মালিকরা। খাদ্য গুদামে কৃষক ও মিল মালিকদের হয়রানি বন্ধের দাবি তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চাল কল মালিক বলেন, খাদ্য গুদামে অভিযান চালালেই বেড়িয়ে আসবে নিম্নমানের ধান-চাল। তাছাড়া যেসব ধান ক্রয় করা হয়েছে-সে সম্পর্কে স্থানীয় কৃষকরা কিছুই জানেন না। বিভিন্ন ভাবে তাদের ভোটার আইডি সংগ্রহ করে এসব অবৈধ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

কামদিয়া ইউনিয়নের কৃষক রুহুল আমিন জানান, ধান গুদামে নিয়ে গেলে কখনো বলা হয় শুকানো বেশি হয়েছে-আবার কখনো বলে কম শুকানো হয়েছে, চকচকে ধানকেও বলে রঙ ঠিক নেই। এমন সব উল্টাপাল্টা কথা বলে গুদাম থেকে ধান বের করে দেয়া হয়। গুদাম কর্তৃপক্ষ কৌশলে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো ধান কিনে থাকে। ফলে আমাদের মতো সাধারণ কৃষকদের ধান না কিনে তারা গুদাম থেকে সেসব ধান বের করে দেয়।

আরেক কৃষক রমজান আলী জানান, ধান ভর্তি গাড়ী গুদামে সিরিয়ালে রাখার পর তারা বলেন, এখন ধান নেওয়া যাবেনা-আপনারা অন্যদিন আসেন। পরে গেলে বলে ধানের মান ভালো না, এসব ধান নেওয়া যাবেনা এ সমস্ত বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে আমাদের ধান গুদাম থেকে নিয়ে যেতে বলেন। পরবর্তীতে তাদের সিন্ডিকেটের লোকজন কম টাকায় ওইসব ধান কিনে গুদামে দেন। এভাবে পুরো সিন্ডিকেটের জিম্মিতে জর্জরিত হয়ে পড়েছে কামদিয়া খাদ্য গুদাম।

আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের শুকনো ও চকচকে ধানকেও তারা নানা অযুহাতে সেসব ধান রিজেক্ট করে দেয়। অথচ সেখানকার দালালদের নি¤œমানের ধান কর্তৃপক্ষ দেদারছে গোডাউনে নিচ্ছেন। আমরা সাধারণ কৃষকরা এখানকার অফিসার আর তাদের পালিত দালালদের কারণে সরকারের দেওয়া সুবিধা হতে বঞ্চিত হচ্ছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলাররা বলেন, প্রতি বস্তাতেই প্রায় এক থেকে দেড় কেজি চাল কম হয়- কিন্তু সুবিধাভোগীরা তো আর কম চাল নেবে না। তখন বাধ্য হয়ে আমাদেরকে এসব কম চাল কিনে দিতে হয়। এ বিষয়ে গুদাম কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও তার কোন সুরহা হয়না। ওই এলাকার কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানান, খাদ্য গুদাম হতে মাঝে মধ্যেই নি¤œমানের চাল দেয়া হয়।এসব ব্যাপারে বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

গোবিন্দগঞ্জ নাগরিক কমিটির আহবায়ক এমএ মতিন মোল্লা বলেন, সরকার কৃষকদের কল্যাণে অনেক কিছু করে থাকে। অথচ খাদ্য গুদামের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার কারণে এসব খেটে খাওয়া কৃষকরা তাদের ধান সরকারি দামে বিক্রি করতে পারেনা। তারা তাদের ন্যায্য অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম রফিক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব মন্ডল (মুন্নু), ময়নূল চৌধুরীসহ অনেকেই এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তিনি খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে নিজেই প্রায় ১২ থেকে ১৪টি চালকলের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম রফিক বলেন, সরকারের দেয়া বরাদ্দকৃত চাল দিতেই হিমশিম খেতে হয়। আমার একটি অটো রাইচমিল। তবে তার বিরুদ্ধে গুদাম থেকে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

এ প্রসঙ্গে খাদ্য পরিদর্শক ও খাদ্য গুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, কিছু চাল কল মালিক নিজেদের চাহিদা মতো ধান-চাল সরবরাহ করতে না পারায় এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন। আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়ভার আমার ওপর চাপানো হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়তই আমাকে এসব ঝামেলা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তবে কিছু এদিক-সেদিক হতেই পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সোহান বলেন, এমন কর্মকান্ডের সঙ্গে গুদাম কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

স্বাধীন দাস গোবিন্দগঞ্জ গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গোবিন্দগঞ্জে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিম্নমানের ধান-চাল সংগ্রহ করায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের অপসরণের দাবী

প্রকাশিত ০৭:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ নভেম্বর ২০২৪

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাধীন কামদিয়া খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করতে নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন কৃষকরা ।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায় গত বোরো মৌসুমে ২০২৪ অর্থ-বছরে অভ্যন্তরিন ইরি-রোরো ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা সিদ্ধ চাল ১১ হাজার ৫৭৪ মেঃ টন, আতপ চাল ৭ শ ৬ মেঃ টন ও ধান ২৯শ ৯৭ মেঃ টন নির্ধারন করেন খাদ্য মন্ত্রনালয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৩ টি গুদামে সিদ্ধ চাল সংগ্রহ হয়েছে ৯ হাজার ৭০ মেঃ টন, আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে ১শ ৪৫ মেঃ টন ও ধান সংগ্রহ হয়েছে ২ হাজার ৪ শ ৬৭ মেঃ টন। অবশিষ্ট সিদ্ধ চাল ২ হাজার ৫ শ ৪ মেঃ টন, আতপ চাল ৫ শ ৬১ মেঃ টন ও ধান ৫ শ ৩০ মেঃ টন সংগ্রহ না হওয়ায় গুদাম কর্মকর্তাগন কয়েকজন মিলারের সঙ্গে গোপন আতাতের মাধ্যমে ওই সব ধান ও চাল ক্রয় ও ক্রাসের নামে মিলারদের বরাদ্ধ দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয় গুদাম কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। গুদাম কর্মকর্তা আসাদুজ্জামন যোগদানের পর থেকেই প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল ক্রয় না করে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করছেন নি¤œমানের ধান-চাল। ফলে কৃষক তার উৎপাদিত ধান-চালের সরকার নির্ধারিত বাজার মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে লোকসান গুনছেন। শুধু তাই নয়, সরকারি গুদাম থেকে সরবরাহ করা চালের বস্তায় পরিমাণে কম দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

গুদামের সব অনিয়ম বন্ধ করে সুষ্ঠুভাবে নিয়ম অনুযায়ী খাদ্য গুদামের কার্যক্রম পরিচালনা এবং ওই কর্মকর্তার অপসারণ চেয়ে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও মিল মালিকরা। খাদ্য গুদামে কৃষক ও মিল মালিকদের হয়রানি বন্ধের দাবি তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চাল কল মালিক বলেন, খাদ্য গুদামে অভিযান চালালেই বেড়িয়ে আসবে নিম্নমানের ধান-চাল। তাছাড়া যেসব ধান ক্রয় করা হয়েছে-সে সম্পর্কে স্থানীয় কৃষকরা কিছুই জানেন না। বিভিন্ন ভাবে তাদের ভোটার আইডি সংগ্রহ করে এসব অবৈধ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

কামদিয়া ইউনিয়নের কৃষক রুহুল আমিন জানান, ধান গুদামে নিয়ে গেলে কখনো বলা হয় শুকানো বেশি হয়েছে-আবার কখনো বলে কম শুকানো হয়েছে, চকচকে ধানকেও বলে রঙ ঠিক নেই। এমন সব উল্টাপাল্টা কথা বলে গুদাম থেকে ধান বের করে দেয়া হয়। গুদাম কর্তৃপক্ষ কৌশলে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো ধান কিনে থাকে। ফলে আমাদের মতো সাধারণ কৃষকদের ধান না কিনে তারা গুদাম থেকে সেসব ধান বের করে দেয়।

আরেক কৃষক রমজান আলী জানান, ধান ভর্তি গাড়ী গুদামে সিরিয়ালে রাখার পর তারা বলেন, এখন ধান নেওয়া যাবেনা-আপনারা অন্যদিন আসেন। পরে গেলে বলে ধানের মান ভালো না, এসব ধান নেওয়া যাবেনা এ সমস্ত বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে আমাদের ধান গুদাম থেকে নিয়ে যেতে বলেন। পরবর্তীতে তাদের সিন্ডিকেটের লোকজন কম টাকায় ওইসব ধান কিনে গুদামে দেন। এভাবে পুরো সিন্ডিকেটের জিম্মিতে জর্জরিত হয়ে পড়েছে কামদিয়া খাদ্য গুদাম।

আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের শুকনো ও চকচকে ধানকেও তারা নানা অযুহাতে সেসব ধান রিজেক্ট করে দেয়। অথচ সেখানকার দালালদের নি¤œমানের ধান কর্তৃপক্ষ দেদারছে গোডাউনে নিচ্ছেন। আমরা সাধারণ কৃষকরা এখানকার অফিসার আর তাদের পালিত দালালদের কারণে সরকারের দেওয়া সুবিধা হতে বঞ্চিত হচ্ছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলাররা বলেন, প্রতি বস্তাতেই প্রায় এক থেকে দেড় কেজি চাল কম হয়- কিন্তু সুবিধাভোগীরা তো আর কম চাল নেবে না। তখন বাধ্য হয়ে আমাদেরকে এসব কম চাল কিনে দিতে হয়। এ বিষয়ে গুদাম কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও তার কোন সুরহা হয়না। ওই এলাকার কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানান, খাদ্য গুদাম হতে মাঝে মধ্যেই নি¤œমানের চাল দেয়া হয়।এসব ব্যাপারে বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

গোবিন্দগঞ্জ নাগরিক কমিটির আহবায়ক এমএ মতিন মোল্লা বলেন, সরকার কৃষকদের কল্যাণে অনেক কিছু করে থাকে। অথচ খাদ্য গুদামের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার কারণে এসব খেটে খাওয়া কৃষকরা তাদের ধান সরকারি দামে বিক্রি করতে পারেনা। তারা তাদের ন্যায্য অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম রফিক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব মন্ডল (মুন্নু), ময়নূল চৌধুরীসহ অনেকেই এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তিনি খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে নিজেই প্রায় ১২ থেকে ১৪টি চালকলের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম রফিক বলেন, সরকারের দেয়া বরাদ্দকৃত চাল দিতেই হিমশিম খেতে হয়। আমার একটি অটো রাইচমিল। তবে তার বিরুদ্ধে গুদাম থেকে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

এ প্রসঙ্গে খাদ্য পরিদর্শক ও খাদ্য গুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, কিছু চাল কল মালিক নিজেদের চাহিদা মতো ধান-চাল সরবরাহ করতে না পারায় এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন। আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়ভার আমার ওপর চাপানো হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়তই আমাকে এসব ঝামেলা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তবে কিছু এদিক-সেদিক হতেই পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সোহান বলেন, এমন কর্মকান্ডের সঙ্গে গুদাম কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।