ঢাকার পরে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী ব্যস্ত নগরী গাজীপুর, শহরে হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা এবং পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যানে এই চিত্র উঠে এসেছে। সচেতন নাগরিক, সাংবাদিক, আইনজীবী ও নগরবাসীর মতে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা এবং প্রশাসনের দুর্বলতাই এই পরিস্থিতির মূল কারণ।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) নগরের আটটি থানায় মোট ৪৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যা গত বছরের পুরো সময়ের (৪৮টি) তুলনায় প্রায় সমান। সদর মেট্রো থানায় এই সময়ে ১১টি হত্যা মামলা হয়েছে, যা অন্যান্য থানার তুলনায় বেশি।
১১ই আগস্ট: টঙ্গীতে ছিনতাইয়ের অভিযোগে গণপিটুনিতে একজন অজ্ঞাত যুবক নিহত হন।
১৬ই আগস্ট: একজন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধির কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ও মোবাইল ছিনতাই করা হয়।
১৪ই আগস্ট: সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পর আরেকজন শরবত বিক্রেতাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
৮ই আগস্ট: টঙ্গীতে একটি ট্রাভেল ব্যাগে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
৯ই জুলাই: ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
গাজীপুর শহরের সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছে যে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া, মামলা নিতে গড়িমসি এবং তদন্তে ধীরগতির কারণে পুলিশের প্রতি তাদের আস্থা কমেছে। অনেকে মনে করেন, পুলিশের কিছু সদস্যের সঙ্গে ছিনতাইকারীদের সখ্যতা থাকতে পারে, কারণ সাংবাদিক হত্যায় অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের সঙ্গীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা মনে করেন, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের অভাবের কারণে এমন ঘটনা বাড়ছে।
আইনজীবী এমদাদুল হক মাসুম বলেন, সম্প্রতি পুলিশের বদলির কারণে নতুন কর্মকর্তারা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় নিচ্ছেন, যার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা।
জিএমপি কমিশনার ড. মো. নাজমুল করিম খান জানান, ৫ই আগস্টের পর অনেক শিল্প কারখানা বন্ধ হওয়ায় বেকার হয়ে পড়া একটি শ্রেণি ছিনতাইয়ে জড়াচ্ছে। এছাড়াও, তিনি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে একটি বাড়তি চাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা পুলিশকে অপরাধ দমনে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে বাধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ৬৫ লাখ জনসংখ্যার এই বিশাল নগরীতে মাত্র ১,১০০ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছেন, যা প্রতি ৫,৯০৯ জনের জন্য একজন পুলিশ সদস্যের সমান। এটি পুলিশের জনবল সংকটের প্রমাণ।