০৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শেখ নাজমুল

গাজিপুর শ্রীপুর সাব-রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি মন্ডলের নেতৃত্বে চলছে ঘুষ-দুর্নীতির মহোৎসব।

  • প্রকাশিত ০৭:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ৫০৮ বার দেখা হয়েছে

গাজিপুর জেলার শ্রীপুরের (মুজিবনগর কর্মচারী) সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ ওসমান গণি মন্ডল

অবাধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ঘুষের রাজ্যত্ব কায়েম করে চলেছেন শ্রীপুর সাব রেজিষ্ট্রার কে। তার বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য হয়রানি’তে দিশেহারা অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন সেবা নিতে আসা দাতা- গ্রহিতারা এছাড়াও দুর্নীতির আখরা পরিণত করেছেন শ্রীপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসকে। সূত্রে জানা যায়, মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে সাব রেজিস্ট্রার পদে ০৭-১২-২০০৯ সালে চাকুরিতে যোগদান করেন তিনি। অথচ তার জনা তারিখ দেওয়া হয়েছে ২৪-০৭-১৯৬৬ সাল ৭ বছর বয়সে তিনি নাকি মুক্তিযোদ্ধায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। মহাক্ষমতাধর সাব রেজিস্ট্রার ওসমান গণি মন্ডলের বেপরোয়া হয়ে কাউকে তোয়াক্কা না করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন শ্রীপুর সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে। খোজ নিয়ে আরোও জানা যায় সাব রেজিষ্ট্রার পদে চাকরিতে বায়োডাটায় শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন বি.এ পাস অথচ খোজ নিয়ে জানতে পারি তিনি নাকি এস.এস.সি পাস। এইচ.এস.সি ও বি.এ পাসের শিক্ষা সনদ জাল করে এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দেখিয়ে সাব রেজিস্ট্রার পদে চাকরি বাগিয়ে নেন তিনি। সাব রেজিষ্ট্রার পদে চাকরিতে যোগদানের পর হইতে বনে যান রাতারাতি কোটিপতি। রাজধানী উত্তরায় ১২নং সেক্টরে ১৩নং রোডে ৫ কাঠা জায়গার উপরে ৬ষ্ঠ তলা বাড়ী নির্মাণ করেছেন কয়েক কোটি টাকা খরচ করে। এছাড়াও তার দেশের বাড়ী কুড়িগ্রামে ২য় তলা ডুপ্লেক্স বাড়ী করেছেন কোটি টাকা খরচ করে। নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকা সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন সাব রেজিস্ট্রার ওসমান গণি। দুদক খতিয়ে দেখলে তার অঢেল সম্পদের খোজ মিলবে। সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে বদলি হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ২৮-১০-২০১০ সালে যোগদান করে বেপরোয়া হয়ে প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্যে রাজ্যত্ব কায়েম করে চলেছিলেন তিনি।। তৎকালীন সময় তার বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয় কিংবা আইজিআর অফিসে আর্থিক দূর্নীতি, শ্রেণি পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া অভিযোগ করলেও তার কালো টাকার প্রভাবে সেই সকল অভিযোগ। আলোর মুখ দেখেনি আজও পর্যন্ত। অভিযোগ রয়েছে কেরানিগঞ্জ মডেল সাব রেজিষ্ট্রার দায়িত্বে থাকাকালীন বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানীর নিকট থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শ্রেণি পরিবর্তন করে দলিল সম্পাদন করতেন। এছাড়াও মিনিয়াম সিটি হাউজিং কোম্পানীর মালিক তাজুল ইসলামের নিকট হইতেও দলিলের শ্রেণি পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে। তার আর্থিক সুবিধার কারণে কোটি কোটি টাকার রাজ্যস্ব বঞ্চিত হয়েছে সরকার। সূত্রে আরোও জানা যায়, লোভনীয় জায়গায় পোস্টিং নেওয়ার জন্য সাবেক আইন মন্ত্রীর রাজনৈতিক এপিএস বাবু ও আইন মন্ত্রণালয়ের কর্তা ব্যক্তিদেরকে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে ২০২২ সালে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে সাব রেজিস্ট্রার পদে বদলি হয়ে আসেন তিনি। যোগদানের পর হইতে বেপরোয়া হয়ে দলিলের ধরন বুঝে ঘুষ নির্ধারণ করে থাকেন তিনি। যে সকল দাতা- গ্রহিতা কিংবা দলিল লেখকগণ তার দাবীকৃত ঘুষের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নাল জমি হয়ে যায় ভিটা, আবাসিক অথবা খাস জমির দোহাই দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি স্বীকার হতে হয় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দলিল লেখকগণ এই প্রতিবেদক কে জানান। এছাড়াও বিরোধপূর্ণ জমি কিংবা বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান থাকা সেই সকল জমির রেজিষ্ট্রি করে দেওয়ার অভিযোগ আছে সাব রেজিস্ট্রার ওসমান গণির বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। হিন্দুদের পূজা মন্ডবের জায়গা সংক্রান্ত মামলা বিজ্ঞ আদালতে চলমান থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তার আর্থিক লাভবানের কারণে পূজা মন্ডবের জমিও রেজিস্ট্রি করে দিতেও পিছপা হননি ওসমান গণি মন্ডল। সূত্রে জানা যায়, অল্প কিছু দিনের মধ্যেই মুজিবনগর সাব রেজিস্ট্রার ওসমান গণি চাকরি হইতে অবসরে যাবেন ২৩-০৭-২০২৫ সালে, যে কারণে বেপরোয়া হয়ে ঘুষ বাণিজ্য রাজ্যত্ব কায়েম করে চলেছেন। টাকা পেলে সরকারী বন বিভাগের জমিও ব্যক্তি মালিকানা রেজিষ্ট্রি করে থাকেন ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেন এক শ্রেণির অসাধু দলিল লেখকের সহযোগিতায়। বিগত আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকালীন তিনি আওয়ামীলীগের বড় নেতা বলে দাবী করতেন। বর্তমানে সরকারের পরিবর্তনের পরে তিনি এখন আবার বিএনপি পন্থি হিসাবে দাবী করে হুনক্কার দিয়ে থাকেন দলিল লেখকদের নিকট। এক কথায় হয়রানির আরেক নাম শ্রীপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস। সাব-রেজিস্ট্রার এর ঘুষ দূর্নীতির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ সাধারণ দাতা গ্রহিতাদের নিকট। উক্ত অভিযোগের সত্যতা জানার জন্য সাব রেজিষ্ট্রার ওসমান গণির মোবাইলে ফোন দিলে ফোন রিসিভ না করায় তার কোন মতামত পাওয়া যায়নি।

Tag :
জনপ্রিয়

খুলনায় গ্যাস সরবরাহের দাবিতে খুলনা নাগরিক সমাজের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

শেখ নাজমুল

গাজিপুর শ্রীপুর সাব-রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি মন্ডলের নেতৃত্বে চলছে ঘুষ-দুর্নীতির মহোৎসব।

প্রকাশিত ০৭:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪

গাজিপুর জেলার শ্রীপুরের (মুজিবনগর কর্মচারী) সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ ওসমান গণি মন্ডল

অবাধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ঘুষের রাজ্যত্ব কায়েম করে চলেছেন শ্রীপুর সাব রেজিষ্ট্রার কে। তার বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য হয়রানি’তে দিশেহারা অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন সেবা নিতে আসা দাতা- গ্রহিতারা এছাড়াও দুর্নীতির আখরা পরিণত করেছেন শ্রীপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসকে। সূত্রে জানা যায়, মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে সাব রেজিস্ট্রার পদে ০৭-১২-২০০৯ সালে চাকুরিতে যোগদান করেন তিনি। অথচ তার জনা তারিখ দেওয়া হয়েছে ২৪-০৭-১৯৬৬ সাল ৭ বছর বয়সে তিনি নাকি মুক্তিযোদ্ধায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। মহাক্ষমতাধর সাব রেজিস্ট্রার ওসমান গণি মন্ডলের বেপরোয়া হয়ে কাউকে তোয়াক্কা না করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন শ্রীপুর সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে। খোজ নিয়ে আরোও জানা যায় সাব রেজিষ্ট্রার পদে চাকরিতে বায়োডাটায় শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন বি.এ পাস অথচ খোজ নিয়ে জানতে পারি তিনি নাকি এস.এস.সি পাস। এইচ.এস.সি ও বি.এ পাসের শিক্ষা সনদ জাল করে এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দেখিয়ে সাব রেজিস্ট্রার পদে চাকরি বাগিয়ে নেন তিনি। সাব রেজিষ্ট্রার পদে চাকরিতে যোগদানের পর হইতে বনে যান রাতারাতি কোটিপতি। রাজধানী উত্তরায় ১২নং সেক্টরে ১৩নং রোডে ৫ কাঠা জায়গার উপরে ৬ষ্ঠ তলা বাড়ী নির্মাণ করেছেন কয়েক কোটি টাকা খরচ করে। এছাড়াও তার দেশের বাড়ী কুড়িগ্রামে ২য় তলা ডুপ্লেক্স বাড়ী করেছেন কোটি টাকা খরচ করে। নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকা সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন সাব রেজিস্ট্রার ওসমান গণি। দুদক খতিয়ে দেখলে তার অঢেল সম্পদের খোজ মিলবে। সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে বদলি হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ২৮-১০-২০১০ সালে যোগদান করে বেপরোয়া হয়ে প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্যে রাজ্যত্ব কায়েম করে চলেছিলেন তিনি।। তৎকালীন সময় তার বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয় কিংবা আইজিআর অফিসে আর্থিক দূর্নীতি, শ্রেণি পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া অভিযোগ করলেও তার কালো টাকার প্রভাবে সেই সকল অভিযোগ। আলোর মুখ দেখেনি আজও পর্যন্ত। অভিযোগ রয়েছে কেরানিগঞ্জ মডেল সাব রেজিষ্ট্রার দায়িত্বে থাকাকালীন বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানীর নিকট থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শ্রেণি পরিবর্তন করে দলিল সম্পাদন করতেন। এছাড়াও মিনিয়াম সিটি হাউজিং কোম্পানীর মালিক তাজুল ইসলামের নিকট হইতেও দলিলের শ্রেণি পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে। তার আর্থিক সুবিধার কারণে কোটি কোটি টাকার রাজ্যস্ব বঞ্চিত হয়েছে সরকার। সূত্রে আরোও জানা যায়, লোভনীয় জায়গায় পোস্টিং নেওয়ার জন্য সাবেক আইন মন্ত্রীর রাজনৈতিক এপিএস বাবু ও আইন মন্ত্রণালয়ের কর্তা ব্যক্তিদেরকে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে ২০২২ সালে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে সাব রেজিস্ট্রার পদে বদলি হয়ে আসেন তিনি। যোগদানের পর হইতে বেপরোয়া হয়ে দলিলের ধরন বুঝে ঘুষ নির্ধারণ করে থাকেন তিনি। যে সকল দাতা- গ্রহিতা কিংবা দলিল লেখকগণ তার দাবীকৃত ঘুষের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নাল জমি হয়ে যায় ভিটা, আবাসিক অথবা খাস জমির দোহাই দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি স্বীকার হতে হয় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দলিল লেখকগণ এই প্রতিবেদক কে জানান। এছাড়াও বিরোধপূর্ণ জমি কিংবা বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান থাকা সেই সকল জমির রেজিষ্ট্রি করে দেওয়ার অভিযোগ আছে সাব রেজিস্ট্রার ওসমান গণির বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। হিন্দুদের পূজা মন্ডবের জায়গা সংক্রান্ত মামলা বিজ্ঞ আদালতে চলমান থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তার আর্থিক লাভবানের কারণে পূজা মন্ডবের জমিও রেজিস্ট্রি করে দিতেও পিছপা হননি ওসমান গণি মন্ডল। সূত্রে জানা যায়, অল্প কিছু দিনের মধ্যেই মুজিবনগর সাব রেজিস্ট্রার ওসমান গণি চাকরি হইতে অবসরে যাবেন ২৩-০৭-২০২৫ সালে, যে কারণে বেপরোয়া হয়ে ঘুষ বাণিজ্য রাজ্যত্ব কায়েম করে চলেছেন। টাকা পেলে সরকারী বন বিভাগের জমিও ব্যক্তি মালিকানা রেজিষ্ট্রি করে থাকেন ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেন এক শ্রেণির অসাধু দলিল লেখকের সহযোগিতায়। বিগত আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকালীন তিনি আওয়ামীলীগের বড় নেতা বলে দাবী করতেন। বর্তমানে সরকারের পরিবর্তনের পরে তিনি এখন আবার বিএনপি পন্থি হিসাবে দাবী করে হুনক্কার দিয়ে থাকেন দলিল লেখকদের নিকট। এক কথায় হয়রানির আরেক নাম শ্রীপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস। সাব-রেজিস্ট্রার এর ঘুষ দূর্নীতির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ সাধারণ দাতা গ্রহিতাদের নিকট। উক্ত অভিযোগের সত্যতা জানার জন্য সাব রেজিষ্ট্রার ওসমান গণির মোবাইলে ফোন দিলে ফোন রিসিভ না করায় তার কোন মতামত পাওয়া যায়নি।