নালিতাবাড়ির এক সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একজন সরকারী কর্মচারী হয়ে সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় বলেও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে এছাড়াও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।অভিযুক্ত সহকারী উপজেলা যুব কর্মকর্তার নাম মাহফুজা ইয়াসরীন।
তিনি নালিতাবাড়ি সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে কর্মরত আছেন।
জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ,যুব মহিলা লীগ এর মিছিল মিটিং এ উপস্থিত থাকতেন। এই বিষয়ে সরাসরি কথা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নালিতাবাড়ি উপজেলার মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূহেলিকা দিব্রা বলেন মাঝে মাঝে
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ,যুব মহিলা লীগ এর মিছিল মিটিং এ উপস্থিত থাকতেন।
সহকারী উপজেলা যুব কর্মকর্তা মাহফুজা ইয়াসরীন এর প্রতারণার শিকার প্রাক্তন সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার শহর বানু বলেন আমাকে নির্বাচন এ পাশ করিয়ে দিবে এই বলে আমার কাছে এক লক্ষ পঞ্চান্ন হাজার টাকা দিয়েছে।
সহকারী উপজেলা যুব কর্মকর্তা মাহফুজা ইয়াসরীন এর প্রতারণার শিকার পল্লী উন্নয়ন বোর্ড বিআরডিবি নালিতাবাড়ির প্রধান পরিদর্শক স্বামী জাহাঙ্গীর আলম বলেন আমার স্ত্রী মাহফুজা ইয়াসরীন সহকারী উপজেলা যুব কর্মকর্তা নালিতাবাড়ি। দীর্ঘ দিন যাবত আমার স্ত্রী মাহফুজা ইয়াসরীন পৌরসভার মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক বাহিনীর গ্রুপ এর সাথে আওয়ামী লীগ এর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাকে বারবার নিষেধ করার পরও তার সহকর্মী সহকারী উপজেলা যুব কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন এর সাথে উঠাবসা সহ রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীদের সাথে যেখানে সেখানে মনগড়া ভাবে চলাফেরা করে বাসায় আমার কোন খোঁজ খবর নেয় না এবং কোন কথা শোনে না মোবাইল এ যোগাযোগ করতে নিষেধ করে পরবর্তীতে আমার মোবাইল নাম্বার দুইটা ব্ল্যাক লিস্ট এ রেখেছে। তার চলা ফেরা আচরণ আমার কাছে সন্দেহ জনক এবং আপত্তিকর।সে বিভিন্ন ভাবে তার সহকর্মী বিল্লাল সহ তার পুরুষ এবং মহিলা শুভাকাঙ্ক্ষীদের দ্বারা আমাকে অসম্মান জনক আচরণ করে এবং ভয় ভীতি প্রদর্শন করে।আমার দুই সন্তানকে তার মা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ অপপ্রচার চালিয়ে
দুই সন্তানকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। নালিতাবাড়ি পৌরসভার আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন আমার বাসায় গেলেই আমার মাহফুজা ইয়াসরীন এবং আমার দুই সন্তান অপমান করে বাসা থেকে বের করে দেয়।
আমার স্ত্রী মাহফুজা ইয়াসরীন আমার বিরুদ্ধে নালিতাবাড়ি পৌরসভার মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক এর কাছে অভিযোগ করেন এবং নালিতাবাড়ি থানায়, কোর্ট এ মিথ্যা মামলা দায়ের করে প্রতি নিয়ত হয়রানি করছে। এই মত অবস্থায় পরিবারের শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আমার পিতা ও গ্রাম্য মাতব্বরদের আমার স্ত্রীর কাছে পাঠানো হলে পাঁচ লক্ষ টাকা এবং একর জমি লিখে দিলে সংসার করবে আর না হলে সংসার করবে না।সহকারী উপজেলা যুব কর্মকর্তা মাহফুজা ইয়াসরীন এর প্রতারণার শিকার পল্লী উন্নয়ন বোর্ড বিআরডিবি নালিতাবাড়ির প্রধান পরিদর্শক স্বামী জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন আমার স্ত্রী মাহফুজা ইয়াসরীন সহকারী উপজেলা যুব কর্মকর্তা নালিতাবাড়ি বিভিন্ন নিয়োগ বাণিজ্য সিন্ডিকেট এর সাথে জড়িত।
সহকারী উপজেলা যুব কর্মকর্তা মাহফুজা ইয়াসরীন এর এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সাংবাদিক ও নারী নেত্রী মোকসেদা বেগম নীড়ু বলেন একজন সরকারী কর্মচারী কিভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকে এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীর বিচার কামনা করছি ।
সহকারী উপজেলা যুব কর্মকর্তা মাহফুজা ইয়াসরীন এর এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নালিতাবাড়ি মাসুদ রানা এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
সহকারী উপজেলা যুব কর্মকর্তা মাহফুজা ইয়াসরীন এর এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করি তরফদার মাহমুদুর রহমান
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তিনি বলেন একজন সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে কেউ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে না বিধি মোতাবেক তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করলেন।
এই বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সহকারী উপজেলা যুব কর্মকর্তা মাহফুজা ইয়াসরীন একজন সরকারী কর্মচারী হয়ে সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় এই কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন কোন পরিস্থিতিতে কোনো পইরা গেছি আমার জানা মতে মিছিল মিটিং এ ছিলাম না।প্রাক্তন সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার শহর বানু কে নির্বাচন এ পাশ করিয়ে দিবেন এই জন্য এক লক্ষ পঞ্চান্ন হাজার টাকা নিয়েছেন এই বিষয়ে তিনি বলেন এই অভিযোগ মিথ্যা।