০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে অচলাবস্থা: খায়রুল আলম প্রিন্সের নেতৃত্বে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক

  • প্রকাশিত ০৩:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৪
  • ২১৯ বার দেখা হয়েছে

সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ উইংয়ের পরিচালক ও কৃষিবিদ ইনষ্টিটিউটের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির মহাসচিব কৃষিবিদ খায়রুল আলম প্রিন্সের নেতৃত্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ও উপ-পরিচালক সমমানের প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তা গত ২৪ আগষ্ট রাতে মিরপুরের একটি রেস্তোরায় গোপন বৈঠক করেন। সভায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন কন্দাল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোখলেছুর রহমান, সাইট্রাস প্রকল্পের ফারুক হোসেন, টিস্যু কালচার প্রকল্পের তালহা জোবায়ের মাশরুর, কাজুবাদাম প্রকল্পের শহিদুল ইসলাম, খামার যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের মোহাম্মদ শফিউদ্দিন, পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের বনি আমিন, ময়মনসিংহ প্রকল্পের জিয়াউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন প্রকল্প পরিচালক, উপ-পরিচালক (পার্সোনেল) আবদুল হাই, উপ-পরিচালক (লিসাসা) শহিদুল ইসলাম, উপ-পরিচালক (বালাইনাশক প্রশাসন) জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আহসানুল বাসার, কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক সুরজিৎ সাহা, এডিডি-২, এডিডি (লিসাসা)সহ খামারবাড়ি ও বিভিন্ন জেলার আওয়ামী কর্মকর্তাগণ। এরা সকলেই ৪ আগষ্টের শান্তি মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বৈঠকে পতিত স্বৈরাচারী সরকারের দোসররা বর্তমান সরকারকে জনগণের কাছে অজনপ্রিয় করার জন্য বেশ কিছু কর্মসূচী গ্রহণ করছেন। কৃষি সেক্টর সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। এই সেক্টরে সমস্যা তৈরী হলে দেশের উৎপাদন ব্যাহত হবে পাশাপাশি একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। কৃষি সেক্টরে কর্মরত আওয়ামী সরকারের দোসররা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছে। সামনে আমন মৌসুম। এই মৌসুমে সার বিতরণসহ বিভিন্ন উপকরণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকারকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে আওয়ামী কর্মকর্তারা মাঠে নেমেছেন। যেহেতু ডিএই এর সকল গুরুত্বপূর্ণ পদে গত ৪ অগাস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের সরাসরি বিরোধীতাকারী আওয়ামী প্রেতাত্মা বসে আছে, তারা যে কোন মূল্যে সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য তৎপর। কৃষিবিদ খায়রুল আলম প্রিন্সের নেতৃত্বে গোপন সভায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলার কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব প্রদান করেছেন। পাশাপাশি খায়রুল আলম প্রিন্সের নেতৃত্বে সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালকগণ প্রয়োজণীয় অর্থের যোগান দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কৃষকদের উস্কিয়ে দেয়ার কাজ করবে। মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে কোন কাজ করবে না বলেও সভায় নিশ্চয়তা দেয়া হয়। উল্লেখিত আওয়ামীপন্থী ও দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকল্প পরিচালকদের মধ্যে কন্দাল প্রকল্পের পরিচালক মোখলেসুর রহমানের দম্ভোক্তি এবং অসদাচরণ সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তিনি কাউকে পাত্তা দিতেন না। সূত্র জানায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতেন। প্রকল্পের কার্যক্রমে নয়ছয় করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।যার কারণে তার আস্ফালনও ভয়াবহ পর্যায়ে রূপ নেয়। এমতাবস্থায় সরকার যদি অতি দ্রুত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ও প্রকল্প থেকে আওয়ামীপন্থী এবং শান্তি মিছিলে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের অপসারণ না করে তাহলে যে কোন মুহূর্তে সরকার বিপদে পড়তে পারে বলে বিজ্ঞমহল মনে করেন। সুতরাং এ ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালিন সরকারকে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সচেতনমহল জোর দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে অচলাবস্থা: খায়রুল আলম প্রিন্সের নেতৃত্বে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক

প্রকাশিত ০৩:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৪

সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ উইংয়ের পরিচালক ও কৃষিবিদ ইনষ্টিটিউটের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির মহাসচিব কৃষিবিদ খায়রুল আলম প্রিন্সের নেতৃত্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ও উপ-পরিচালক সমমানের প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তা গত ২৪ আগষ্ট রাতে মিরপুরের একটি রেস্তোরায় গোপন বৈঠক করেন। সভায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন কন্দাল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোখলেছুর রহমান, সাইট্রাস প্রকল্পের ফারুক হোসেন, টিস্যু কালচার প্রকল্পের তালহা জোবায়ের মাশরুর, কাজুবাদাম প্রকল্পের শহিদুল ইসলাম, খামার যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের মোহাম্মদ শফিউদ্দিন, পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের বনি আমিন, ময়মনসিংহ প্রকল্পের জিয়াউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন প্রকল্প পরিচালক, উপ-পরিচালক (পার্সোনেল) আবদুল হাই, উপ-পরিচালক (লিসাসা) শহিদুল ইসলাম, উপ-পরিচালক (বালাইনাশক প্রশাসন) জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আহসানুল বাসার, কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক সুরজিৎ সাহা, এডিডি-২, এডিডি (লিসাসা)সহ খামারবাড়ি ও বিভিন্ন জেলার আওয়ামী কর্মকর্তাগণ। এরা সকলেই ৪ আগষ্টের শান্তি মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বৈঠকে পতিত স্বৈরাচারী সরকারের দোসররা বর্তমান সরকারকে জনগণের কাছে অজনপ্রিয় করার জন্য বেশ কিছু কর্মসূচী গ্রহণ করছেন। কৃষি সেক্টর সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। এই সেক্টরে সমস্যা তৈরী হলে দেশের উৎপাদন ব্যাহত হবে পাশাপাশি একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। কৃষি সেক্টরে কর্মরত আওয়ামী সরকারের দোসররা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছে। সামনে আমন মৌসুম। এই মৌসুমে সার বিতরণসহ বিভিন্ন উপকরণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকারকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে আওয়ামী কর্মকর্তারা মাঠে নেমেছেন। যেহেতু ডিএই এর সকল গুরুত্বপূর্ণ পদে গত ৪ অগাস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের সরাসরি বিরোধীতাকারী আওয়ামী প্রেতাত্মা বসে আছে, তারা যে কোন মূল্যে সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য তৎপর। কৃষিবিদ খায়রুল আলম প্রিন্সের নেতৃত্বে গোপন সভায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলার কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব প্রদান করেছেন। পাশাপাশি খায়রুল আলম প্রিন্সের নেতৃত্বে সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালকগণ প্রয়োজণীয় অর্থের যোগান দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কৃষকদের উস্কিয়ে দেয়ার কাজ করবে। মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে কোন কাজ করবে না বলেও সভায় নিশ্চয়তা দেয়া হয়। উল্লেখিত আওয়ামীপন্থী ও দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকল্প পরিচালকদের মধ্যে কন্দাল প্রকল্পের পরিচালক মোখলেসুর রহমানের দম্ভোক্তি এবং অসদাচরণ সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তিনি কাউকে পাত্তা দিতেন না। সূত্র জানায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতেন। প্রকল্পের কার্যক্রমে নয়ছয় করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।যার কারণে তার আস্ফালনও ভয়াবহ পর্যায়ে রূপ নেয়। এমতাবস্থায় সরকার যদি অতি দ্রুত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ও প্রকল্প থেকে আওয়ামীপন্থী এবং শান্তি মিছিলে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের অপসারণ না করে তাহলে যে কোন মুহূর্তে সরকার বিপদে পড়তে পারে বলে বিজ্ঞমহল মনে করেন। সুতরাং এ ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালিন সরকারকে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সচেতনমহল জোর দাবি জানিয়েছেন।