মাদারীপুরের কালকিনিতে স্কুলে জমি না দিয়ে দাতা সদস্য হয়ে ৪৫ বছর স্কুল কমিটি দখলের অভিযোগ স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। অথচ স্কুল প্রতিষ্ঠায় পুরোটা জমি দান করেও স্কুল কমিটিতে তাদের নাম না রাখার অভিযোগ জমির দাতা সদস্যের স্বজনদের। উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ১১২নং লক্ষ্মীপুর পখীরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এই ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার আলো গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে দিতে স্থানীয় শিক্ষা অনুরাগী মৃত সরদার মোঃ বদিউজ্জামান ওই স্কুলে ১৯৭৯ সালে ১৬ শতাংশ জমি দান করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এতে এলাকার দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার আলোতে প্রস্ফুটিত হয় এবং আস্তে আস্তে এলাকার সামাজিক কর্মকান্ড স্কুল কেন্দ্রীক হতে শুরু করে। এরপরে এলাকায় স্কুলের গুরুত্ব উপলব্ধি করে আদাম্মাদ সরদার ও আবুল হাসেম ১৭ শতাংশ জমি স্কুলে নামে দান করেন। কিš‘ বিগত ৪৫ বছর পরেও স্কুল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়নি। তার পরেও তাদেরকে স্কুল কমিটির দাতা সদস্যদের তালিকায় রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে স্কুলের জমিদাতা সরদার মোঃ বদিউজ্জামানের বড় মেয়ে নেদারল্যান্ড প্রবাসী পেশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও লেখক বদরুজা নাসরিন (বেবী) বলেন, আমাদের পৈত্রিক বাড়ির পাশে, আমার মরহুম পিতা সরদার মো: বদিউজ্জামান (বদর) গ্রামের শিশুদের শিক্ষা দান করার উদ্দেশে কিছু জমি দান করার ই”ছা প্রকাশ করেন এবং আমাদের তৎকালিন বেতনভূক কর্মচারী আবুল হাসেমকে সেই মতে একটি দলিল তৈরী করতে বলেন। সেই মোতাবেক ১৮ ডিসেম্বর-১৯৭৯ ইং সনে আমার মরহুম পিতা ৪২১ ও ৪২২নং দাগ থেকে ৩৫ শতাংশ জমি হতে ১৬ শতাংশ জমি স্কুল নির্মাণের উদ্দেশ্যে দান করেন। স্কুলের নির্মাণের পর থেকে এই পর্যন্ত আমাদের জমির উপরেই স্কুল ভবনটা দাড়িঁয়ে আছে। এবং আমার মরহুম চাচা এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত করেন। বাদবাকি ১৯ শতাংশ জমি আমাদের ভোগ দখলে থেকে যায়।
বেবী আরও বলেন, এই গ্রামে একটি স্কুল হলে গ্রামের ভবিষ্যৎ পাল্টে যাবে ও সেই স্কুলের সাথে জড়িত থাকলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে সুবিধা হবে এই বিষয়টা বুঝতে পেওে অতি চতুর আবুল হাসেম ও তার ভাই আদাম্মাদ সরদারও কিছু জমি দান করে। স্কুলে তাদের অবদান রাখতে চায়। তারা ৪২৭ নং দাগ থেকে ০৯ শতাংশ ও ৪২৩ নং দাগ থেকে ০৮ শতাংশ, জমি স্কুলের নামে দলিল করে দিয়ে স্কুলের ভাগীদার হয়। কিন্তু বিগত প্রায় ৪৫ বছর যাবত হাজারো চেষ্টা করে আজ অবধী আবুল হাসেম ও তার ভাই আহাম্মাদ সরদার গংদের হাত থেকে কেউ তাদের দান করা সম্পত্তি বুঝে আনতে পারে নাই। আমি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে কালকিনির বহুবার শিক্ষা অফিসার সহ গন্যমান্য ব্যক্তিদেও অনুরোধ করেছি তাদেও দান করা জমি যেন স্কুল কর্তৃপক্ষে বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই দান করা জমি কেউ স্কুলের জন্য বুঝে আনতে পারে নাই। স্কুলের এই দান করা জমি তারা পারিবারিক ভাবে ভোগ দখল করছে এবং দীর্ঘ ৪৫ বছর যাবত স্কুল, বাংলাদেশ সরকার ও এলাকাবাসির সাথে প্রতারণা করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, স্কুলের এই দান করা জমি উদ্ধারের জন্য আমি বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে আমি আদালতে মামলা করেছি। দেওয়ানী মামলা নং ২২৭/২২। আমাদের এলাকায় বহিরাগত আবুল হাসেম ও আহাম্মাদ সরদারের অপরাধ প্রবন ও চতুর পরিবারের সদস্যরা স্কুলটাকে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। কোমলমতি শিশুদের অপরাধী হওয়ার তামিল দিচ্ছে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের মুল কাজ হলো আমার বাগানের গাছ ছিড়ে ফেলা ও সবর্ত্র ময়লা ফেলা। বলাবাহুল্য যে, দাতা হিসাবে স্কুলের এই ৪৫ বছরের মধ্যে বর্তমান কমিশনার ও সভাপতির পরিবারের লোকজনরাই সব সময়ে স্কুলের সভাপতির পদে ছিলো। এলাকাবাসীর চাপে মাত্র দুইবার আমার ভাইয়ের স্ত্রী মুসলিমা জামান কে সভাপতি করা হয়। কিš‘ তাকে কোনো কাজ করতে দেওয়া হয় নাই। এবারে স্কুলের দাতা হিসাবে আমার ছোটবোন এ্যাডভোকেট ‘বদরুজা নাহিদ লিলি’র নাম আমরা জমা দিয়েছি। তিনি মাদারীপুর বার এর একজন সিনিয়র আইনজীবী। সভাপতির পদের জন্য তাকে যোগ্য বলে মনে করে এলাকাবাসী। স্কুলের তথাকথিত দাতা আবুল হাসেম ও আহাম্মদ সরদার গংদের নাম দাতা হিসাবে কর্তন করে বদরুজা নাহিদ লিলিকে আমাদের মরহুম পিতার দান করা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত স্কুলের সভাপতি নির্বাচন দাবী জানান তিনি।