ভাষা আর আশা নিয়ে আজ বড় দৌড় ঝাঁপ বর্ণের
হাতে মহা-ধন ইমিটেশন চকচকে ঠিক যেন স্বর্ণের।
কবি শহীদুল্লাহ আনসারী অতৃপ্ত বাসনায় নিজেকে কখনো আত্মতৃপ্তির জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন। আবার কখনো হয়তো জীবনের টানা পোড়েনে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে নিজেকে খাপ খাওয়াতে কষ্ট হয়েছে। এতো অর্জন তারপরও কোন তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে পারেন না। মনে হয় আরও বেশি বেশি কাজ করে টিকে থাকার লড়াইয়ে অংশ গ্রহণ করে জীবন অপূর্ণ থেকে যায়।
কেউ দেখেন স্বপ্নের বালিহাঁস বালিঘাটে সারারাত
নির্ঘুম-ভাবনায় হিরে -মতি-জহরত পাওয়া যেন ডালভাত।
কবির ভাবনায় অমূল্য রতন পেলেও তার কাছে স্বপ্নই মনে হয়। কবিতার রাজ্যে অরাজকতা দেখে কবিকে বিস্মিত হতে হয়। ছন্দের দ্বন্দ্বে কাঁটাঘার গন্ধে কবিতাকে কবিতাই চেপে ধরে টুটি কবি কবিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। কারণ কবিতা যখন ছন্দের দ্বন্দ্বে ভোগে তখন গদ্যেরা কবিতাকে ছুটি দিয়ে যা মনে হয় তাই লিখে যাই।
মনে হয় যেন ছবির অন্তরে এক
অনুপম নিসর্গ আঁকা
শহীদি রক্তের ভক্তের বর্ধিষ্ণু আর্তনাদ
কখনো যাবে না ঢাকা।
কবির আর্তনাদ কখনো নিঃষ্ফল হতে পারে না। প্রিয়তমার রুপের ঝলকে এতে যে কি সুধা জড়ায়ে আছে তা কখনো অনুভব করে নাই। আমার আপনার ঘরে আমিই রাজা নিজের ভুলের জন্য নিজে নেই সাজা । যখন কোন নিজের গতি খুঁজে পায় না তখন নিজের শাস্তি নিজেই পেয়ে যায়। ছাত্র-জনতা আবালবৃদ্ধ বনিতা সবাই মিশে একাকার, ঘুষখোর দূর্নীতিবাজ শোষক আর অত্যাচারিকে ধিক্কার।
কবির কাছে অন্যায়কারী ঘুষখোর সবাই মিথ্যেবাদী।অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হয়েও কেউ যদি কেড়ে নেয়। সেই জাতি ও সমাজকে ধিক্কার জানিয়েছেন।
সহজে পেয়ে যাওয়া অবাক করার মতই কিছু ঘটনা ঘটে যায় তাহলে তার সাহসিকতার কোন পরিচয় নাই। যারা সহজে কোন কিছু পায় না তারা শুধুই আফসোস করে মরে।
আমরা যারা সরল-পথে সুখের নৌকা বাই, আজকে তারা তাঁর দুয়ারে আশুমুক্তি চাই। কবি সরল পথের দিশারি। একদিন হয়তো এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে কথা বুঝতে পারে সে আর পাপের দিকে ধাপিত হয় না। সৎ পথে চলার চেষ্টা করে। তাকে আর কখনো খারাপ পথে আনা যায় না। সে উদাসীন হয়ে যায়। তাঁর শুধু চিন্তা ওপারে সে কেমন থাকবে।
কবিতা বলেছে সবার কানে-কানে চুপি-চুপি
ছেড়ে দাও নশ্বর মায়া মরিচিকা
আমার মতো তোমরাও ছুটি নাও চিরতরে
ভুলে যাও সবকিছু চলে যাও লোকান্তরে।
কবিতার মতই একদিন কবি সব কিছু ছেড়ে দিয়ে লোকান্তরে চলে যাবে।
কবি কিজেকে সব্যসাচী লেখক দাবী করেছেন। এতোকিছু করেও যদি মূল্যায়ন না হয় তাহলে বেঁচে থাকার দরকার নাই। কবির কবিতা অক্ষর বৃত্ত ও স্বর বৃত্তে লিখবার চেষ্টা করেছেন। আসলে তিনি কোন ছন্দই মেনে চলেননি। গদ্যের ধারাও ফলো করেননি। কিছু কিছু কবিতা জীবনান্দ দাসের মত করে লিখতে চেষ্টা করেছেন বটে।