নিজস্ব প্রতিবেদক :
দখল-বেদখলের খেলায় টালমাটাল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন এবং কাঞ্চন পৌর এলাকা। কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না দখলদার বাহিনীকে। তাদের বেপরোয়া মনোভাব ভাবিয়ে তুলছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনকেও।
অনুসন্ধান বলছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিগত দিনের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দখলবাজ কাওসার ভূঁইয়ার প্রভাব এখনো সরব। বিএনপির নামধারী একশ্রেণীর প্রভাবশালীদের সাথে যোগসাজশে গোটা এলাকায় কায়েম করছেন ত্রাসের রাজত্ব।
স্থানীয় সাধারণ ও নিরীহ মানুষের জমি দখল, সরকারি খাস জমি কব্জা করে অবৈধ স্থাপনা ও বালুমহাল, জাল দলিল তৈরি, জমির নামজারি প্রতারণা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, লুটপাট থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণে কাওসার বাহিনীর প্রধান কাওসার ভূঁইয়া। তিনি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের আতলাশপুর (হাটাবো) এলাকার আওলাদ ভূঁইয়ার ছেলে এবং নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর খাস লোক। আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে বিগত দিনে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ ও নিরীহ মানুষের ওপর জুলুম এবং হেনস্তার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে এই ভূমিদস্যু কাওসারের বিরুদ্ধে।
তাঁর নামে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, রাজধানীর বাড্ডা থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মারামারি, চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বহু মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে বাড্ডায় এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এই কাওসার।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পরও থেমে নেই কাওসার বাহিনীর পুরানো কর্মকাণ্ড। প্রশাসনের নাকের ডগায় বহালতবিয়তে চলছে এই বাহিনীর ভূমি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নাম ভাঙ্গিয়ে পূর্বাচল ভ্যালী নামের আবাসন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতারণা-জালিয়াতি করে শত-শত কোটি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই কাওসারের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা এবং ভূলতা ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের বিঘার পর বিঘা জমি দখলবাজিতে একচ্ছত্র রাজত্ব কায়েমের পাশাপাশি এলাকাজুড়ে সন্ত্রাসের স্বর্গভূমিতে পরিণত করেছে কাওসার বাহিনী। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে আর নিস্তার নেই। হামলা-নির্যাতন আর মামলা নাটকে কাওসার ও তাঁর ক্যাডাররা দমিয়ে রাখে এলাকার সাধারণ মানুষজনকে। এ কারণে কেউ ভয়ে মুখ খুলতে চায় না। ব্যক্তিমালিকানাধীন ও সরকারি খাস জমি দখল করা কাওসারের কাছে যেনো ডালভাতের মতো ব্যপার। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এই বাহিনীর সদস্যদের নেপথ্যে রাজনৈতিক ছত্রছায়ার পাশাপাশি প্রশাসনের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তা রয়েছে। যাঁর বেশকিছু অভিযোগ ও তথ্যপ্রমাণ সংগৃহীত করা হয়েছে। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উপার্জিত টাকায় সম্পদের পাহাড় গড়েছেন কাওসার। তাঁর নামে-বেনামে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা গত প্রায় ষোলো বছর ধরে দখলবাজি আর চাঁদাবাজির ঠিকাদারিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের রামরাজত্ব নিয়ন্ত্রণ করছেন আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, লুটেরা এবং দখলবাজ কাওসার।
এইসব বিষয়ে জানতে কাওসারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।