০২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

একুশ তারা সমিতির চুক্তি অমান্য ব্যবসা লুঠের শিকার, শেরপুরের রফিকুলের জীবন নিঃস্ব ও হুমকিতে

  • প্রকাশিত ০৬:৪১:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ৫৪ বার দেখা হয়েছে

খোরশেদ আলম, শেরপুর

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুঠপাট ও ভাংচুরের পর দোকানের ইট, সুড়কি, টিন, কাঠ, রড, আসবাবপত্রসহ মূল্যবান জিনিসপত্র গাড়ীতে ভরে নিয়ে যাওয়ায় শেরপুর জেলাধীন শ্রীবরদী থানার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম নিঃস্ব হয়ে পরিবার ও জীবন নিয়ে হুমকিতে আছেন। এ ঘটনায় প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দাবী করেন।
লুঠপাট ও ভাংচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একুশ তারা ক্ষদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ শাহজাহান সহ ২২ জন ও অজ্ঞাতনামা আরো ২৫/৩০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী রফিকুল। দ্রুত বিচার আইন ২০০২ এর ৪(১) ৫ ধারায় আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) ট্রাইবুনাল, শেরপুর আদালতে মামলাটি রুজু করা হয়, যার সি আর মামলা নং ২২/২০২৪ ইং। মামলাটি তদন্ত করে রেকর্ডভুক্ত করতে আদালত শ্রীবরদী থানাকে আদেশ দেয়। সরেজমিন তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে এসআই সিরাজুল ইসলাম তা রেকর্ডভুক্ত করেন। যার শ্রীবরদী থানার মামলা নং ১৭, তারিখ ১৯/৯/২০২৪ইং।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মামলার বাদী মোঃ রফিকুল ইসলাম, পিতাঃ মোঃ আবদুস সামাদ, সাং বাউসমারী, থানা ঃ ইসলামপুর, জেলা ঃ জামালপুর ২০২২ সালের ১৮ মার্চ ১০ লক্ষ টাকা অগ্রিম জামানত দিয়ে ঝগড়ারচর বাজার একুশ তারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড থেকে তিন শতাংশ জমি ভাড়া নেন। ভাড়ার চুক্তিপত্রে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষর করেন। চুক্তিপত্র অনুযায়ী বারারচর মৌজার অন্তর্ভুক্ত বিআরএস ৬৭ নং দাগে ঝগড়ারচর বাজার টু ইসলামপুর রাস্তার উত্তর পাশে এ জমির ভাড়া বাবদ রফিকুল প্রতি বছর ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
ভাড়া নেয়ার পরবর্তীতে তিনি ঐ জমিতে একটি আধাপাকা টিনশেড ঘর নির্মাণ করে মেসার্স রিফাত এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্র্স রিফাত ফার্ণিচার গ্যালারী নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে চুক্তির শর্ত অমান্য করে সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক ইয়ার হোসেন সহ কিছু সদস্য রফিকুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরোধীতা শুরু করে। তারা রফিকুলের নামে কয়েকটি মিথ্যা মামলা দেয় বলেও রফিকুল দাবী করেন। ফলে সমিতি ও রফিকুলের মধ্যে তিক্ততা বড় আকার ধারণ করে।
এ তিক্ততা অনুসরণ করে গত ৬ অগাষ্ট সন্ধ্যার দিকে ৪০/৫০ জনের একটি দল সস্ত্রাসী কায়দায় রফিকুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে। রফিকুলের দাবী মতে হামলার নেতৃত্ব দেন সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক ইয়ার হোসেন। হামলাকারীরা দোকান ভাংচুর করে ও প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকার মালামাল লুঠে গাড়ী ভরে নিয়ে যায়।
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ৬ অগাষ্ট সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা/১টা পর্যন্ত হামলাকারীরা লুঠপাট চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও পরদিন সকালে তারা আবার এসে দোকানের স্থাপনা নিশ্চিহৃ করতে কাজ শুরু করে।
লুঠেরারা মালামাল লুঠ ও ভাঙ্গচুরে থেমে থাকেনি, তারা রফিকুলকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এস আই সিরাজুল ইসলাম মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করেন ”২২/২০২৪ বিজ্ঞ আদালত হইতে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ প্রাপ্ত হইয়া তদন্ত পূর্বক এফআইআর হিসেবে গণ্য করিয়া এজাহার কলাম পূরণ পূর্বক মামলা রুজু করিলাম।”
এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সিরাজুল ইসলাম পরবর্তী সময়ে মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে আসামিদের বেকসুর খালাস দিয়েছে। এলাকাবাসীরা জানায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সিরাজুল ইসলাম সম্পূর্ণ বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। বাদী রফিকুল ইসলাম জানায়, এসআই সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি তদন্ত না করে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ না করে এবং আমাকে অবগত না করে আমার স্বাক্ষর জ্বাল করে মামলার তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করে। তিনি মামলাটির পুনর তদন্তের দাবী করেন।

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

একুশ তারা সমিতির চুক্তি অমান্য ব্যবসা লুঠের শিকার, শেরপুরের রফিকুলের জীবন নিঃস্ব ও হুমকিতে

প্রকাশিত ০৬:৪১:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪

খোরশেদ আলম, শেরপুর

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুঠপাট ও ভাংচুরের পর দোকানের ইট, সুড়কি, টিন, কাঠ, রড, আসবাবপত্রসহ মূল্যবান জিনিসপত্র গাড়ীতে ভরে নিয়ে যাওয়ায় শেরপুর জেলাধীন শ্রীবরদী থানার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম নিঃস্ব হয়ে পরিবার ও জীবন নিয়ে হুমকিতে আছেন। এ ঘটনায় প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দাবী করেন।
লুঠপাট ও ভাংচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একুশ তারা ক্ষদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ শাহজাহান সহ ২২ জন ও অজ্ঞাতনামা আরো ২৫/৩০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী রফিকুল। দ্রুত বিচার আইন ২০০২ এর ৪(১) ৫ ধারায় আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) ট্রাইবুনাল, শেরপুর আদালতে মামলাটি রুজু করা হয়, যার সি আর মামলা নং ২২/২০২৪ ইং। মামলাটি তদন্ত করে রেকর্ডভুক্ত করতে আদালত শ্রীবরদী থানাকে আদেশ দেয়। সরেজমিন তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে এসআই সিরাজুল ইসলাম তা রেকর্ডভুক্ত করেন। যার শ্রীবরদী থানার মামলা নং ১৭, তারিখ ১৯/৯/২০২৪ইং।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মামলার বাদী মোঃ রফিকুল ইসলাম, পিতাঃ মোঃ আবদুস সামাদ, সাং বাউসমারী, থানা ঃ ইসলামপুর, জেলা ঃ জামালপুর ২০২২ সালের ১৮ মার্চ ১০ লক্ষ টাকা অগ্রিম জামানত দিয়ে ঝগড়ারচর বাজার একুশ তারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড থেকে তিন শতাংশ জমি ভাড়া নেন। ভাড়ার চুক্তিপত্রে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষর করেন। চুক্তিপত্র অনুযায়ী বারারচর মৌজার অন্তর্ভুক্ত বিআরএস ৬৭ নং দাগে ঝগড়ারচর বাজার টু ইসলামপুর রাস্তার উত্তর পাশে এ জমির ভাড়া বাবদ রফিকুল প্রতি বছর ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
ভাড়া নেয়ার পরবর্তীতে তিনি ঐ জমিতে একটি আধাপাকা টিনশেড ঘর নির্মাণ করে মেসার্স রিফাত এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্র্স রিফাত ফার্ণিচার গ্যালারী নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে চুক্তির শর্ত অমান্য করে সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক ইয়ার হোসেন সহ কিছু সদস্য রফিকুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরোধীতা শুরু করে। তারা রফিকুলের নামে কয়েকটি মিথ্যা মামলা দেয় বলেও রফিকুল দাবী করেন। ফলে সমিতি ও রফিকুলের মধ্যে তিক্ততা বড় আকার ধারণ করে।
এ তিক্ততা অনুসরণ করে গত ৬ অগাষ্ট সন্ধ্যার দিকে ৪০/৫০ জনের একটি দল সস্ত্রাসী কায়দায় রফিকুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে। রফিকুলের দাবী মতে হামলার নেতৃত্ব দেন সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক ইয়ার হোসেন। হামলাকারীরা দোকান ভাংচুর করে ও প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকার মালামাল লুঠে গাড়ী ভরে নিয়ে যায়।
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ৬ অগাষ্ট সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা/১টা পর্যন্ত হামলাকারীরা লুঠপাট চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও পরদিন সকালে তারা আবার এসে দোকানের স্থাপনা নিশ্চিহৃ করতে কাজ শুরু করে।
লুঠেরারা মালামাল লুঠ ও ভাঙ্গচুরে থেমে থাকেনি, তারা রফিকুলকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এস আই সিরাজুল ইসলাম মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করেন ”২২/২০২৪ বিজ্ঞ আদালত হইতে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ প্রাপ্ত হইয়া তদন্ত পূর্বক এফআইআর হিসেবে গণ্য করিয়া এজাহার কলাম পূরণ পূর্বক মামলা রুজু করিলাম।”
এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সিরাজুল ইসলাম পরবর্তী সময়ে মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে আসামিদের বেকসুর খালাস দিয়েছে। এলাকাবাসীরা জানায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সিরাজুল ইসলাম সম্পূর্ণ বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। বাদী রফিকুল ইসলাম জানায়, এসআই সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি তদন্ত না করে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ না করে এবং আমাকে অবগত না করে আমার স্বাক্ষর জ্বাল করে মামলার তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করে। তিনি মামলাটির পুনর তদন্তের দাবী করেন।