আমরা “চোর তাড়িয়ে, ডাকাত আনছি নাতো ঘরে!”
বেশ কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম একটি সতর্কবার্তা ও কিছু নির্দলীয় নিরপেক্ষ অথচ অপ্রিয় সত্য কথা অতি সংক্ষেপে হলেও জাতির উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন। আমি মনে করি এখনই সময় সেই গোপন সতর্ক বার্তাটি জাতির মগজে ঢুকিয়ে দেওয়ার। কথিত আছে, জাতি হিসেবে আমরা অতি আবেগ প্রবণ, সেই সঙ্গে হুজুগ প্রবণও বটে। তাই বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রতিটি পদক্ষেপ সতর্কতার সাথে নেয়া খুবই জরুরী বলে আমি মনে করি।
শত সহস্র বার বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই অতি সম্প্রতি সংগঠিত কোটা সংস্কার আন্দোলনে শহীদ সেই সকল বীর সেনানিদের- যাদের ঘাম, রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে হলেও জনগণের ন্যায্য দাবী আদায়ের পথ সুগম হয়েছে। অত্যান্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সমবেদনা জানাই সকল সন্তান হারা পরিবারের প্রতি এবং সেই সংগে ঐ সকল পরিবারকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উপযুক্ত পারিবারিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে বিনীত আবেদন জানাই। আমি জ্ঞানত বিশ্বাস করি যারা তাদের ন্যায্য দাবী আদায়ের লক্ষ্যে আত্মহুতি দিয়েছে তারা সবাই দেশ প্রেমিক ছাত্র। তাদের জন্য আমার বিনম্র শ্রদ্ধা অহর্ণিশ। পক্ষান্তরে ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে পর্দার অন্তরালে থেকে বা সরাসরি মাঠে নেমে মেট্রোরেল কিংবা সড়ক ভবনের সামনে, কোথাও থানায় ঢুকে, কোথাও হাসপাতালে সর্বোপরি গণভবনে ব্যাপক ধ্বংস যজ্ঞ চালিয়ে হত্যা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে যারা কোটি কোটি টাকার জাতীয় সম্পদের ধ্বংসলীলায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনের মাধ্যমে দেশকে অন্তত শতাব্দীকাল পিছনে টেনে নিয়ে গেছে, জাতি তাদেরকে কখনও ক্ষমা করবেনা বলে আমি বিশ্বাস করি। ঐ সকল স্থাপনা শেখ হাসিনার পৈতৃক সম্পত্তি ছিলোনা। ওটা আমার দেশের সাধারণ জনগণের ঘাম আর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অর্থে নির্মিত। জনগনের সম্পত্তি ধ্বংস করার অধিকার কারো আছে কি? ঐ সকল নির্বোধদের এই বিবেকবোধ আদৌ কোনদিন জাগ্রত হবে কি? এ কথা বলতে দ্বিধা নেই যে, বিগত সময়ে দলীয় মদদপুষ্ট মন্ত্রী আমলাদের অনেকেই দুর্নীতি,অন্যায় অত্যাচার আর অবিচারের রেকর্ড গড়েছে। গড়ে তুলেছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়। এদেশে পূর্ববর্তী সরকার সমুহের আমলেও আমরা একই চিত্র দেখেছি। এ ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার অবস্থা যখন, “শ্যাম রাখি না কুল রাখি”। দল রক্ষা করতে হলে এসব রাঘব বোয়ালদেরকে তার প্রয়োজন, আবার দেশ রক্ষা করতে হলে এদেরকে ছুড়ে ফেলে দিতে হবে, তাতেও আবার ঝুঁকি আছে। উভয় সংকটে দ্বিধা বিভক্ত শেখ হাসিনা এবার একলা চলো নীতিতে উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে ব্যস্ত। এই অবস্থায় আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলো তার সোনার ছেলেরা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সর্বত্র তাদের অত্যাচারের মাত্রা বেড়েই চলছে। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী অতিষ্ঠ। এদিকে আস্তে আস্তে দানা বাঁধতে শুরু করছে কোটা সংস্কার আন্দোলন। সরকার এটাকে খুব বেশী আমলে নিচ্ছেনা। তার যুক্তি সংগত কারণ হতে পারে শেখ হাসিনার নেশাগ্রস্থ ডানহাত-বামহাত খ্যাত মন্ত্রী আমলারা, তারা এটা তাকে বুঝতেই দেয়নি, বরং বুঝিয়েছে যে- ওটা কোনো ব্যাপারই না। এক তুড়িতে সব আন্দোলন উবে যাবে!
ততক্ষণে অনেক বেলা হয়ে গেছে, সূর্য তখন মধ্য গগণে, পদ্মা মেঘনায় গড়িয়েছে অনেক জল, নীল আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে ভীষণ আঁধারে কলংকিত এক অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আমার প্রিয় বাংলাদেশ। এ প্রসংগে চলমান পরিস্হিতিতে দু’জন গুনী ব্যক্তির ভিন্ন ভিন্ন সাক্ষাৎকারে সমোচ্চারিত একটি কথা আমি না বলে পারছিনা, যদিও তারা দু’জন সম্পূর্ন আলাদা জগতের মানুষ। একজন আমার পরিচিত এবং অত্যন্ত প্রিয় একজন কবি ও লেখক বর্তমানে জাতিসংঘে কর্মরত জনাব কাজী জহিরুল ইসলাম এবং অন্যজন জনাব ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। তাদের উভয়ের বক্তব্যের সারাংশটুকু এমন ছিলো যে, শেখ হাসিনা কিংবা তার কোন সিনিয়র মন্ত্রী আমলাদের পক্ষে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের মোটিভ বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি, অপেক্ষাকৃত ওল্ড ব্রান্ড হওয়ায় এই প্রজন্মের চেতনাবোধ, আত্মসম্মান বোধ এবং চিন্তা-চেতনার পরিধি সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল নন। তাতেই কাল হয়েছে। যা তারা কল্পনাও করেনি, বাস্তবে তার চেয়ে বেশি কিছু ঘটে গেছে।
দায় কার?
যে সকল আওয়ামী দালাল, সন্ত্রাসী,লুটেরা,খুনী- তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে দলের ব্যানারে অপকর্মের স্বর্গরাজ্য গড়ে আওয়ামিলীগকে একটি সন্ত্রাসী দল এবং শেখ হাসিনাকে জলজ্যান্ত একজন খুনি হিসেবে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করেছে তাদেরকে ক্ষমা করা যায় কি? জনতার আদালতে তাদের বিচার হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে যদি শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ নির্দেশে আইন বহির্ভূত কোন হত্যা,গুম কিংবা নৃশংসতা সংঘটিত হয়ে থাকে তার বিচারও এই বাংলার মাটিতে হওয়া উচিত।
তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় – শেখ হাসিনার পতন কিংবা কোন দল বা গোষ্ঠীর উত্থান নয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- এমন কোন অপশক্তি যেনো দেশে অনুপ্রবেশ না করে কিংবা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন না হয় যাতে সোনার বাংলায় আবারও স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রয়োজন দেখা দেয়। বাংলার মানুষ এ দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আর কোনো মানুষরূপী খুনী, সন্ত্রাসী,অত্যাচারী,সুবিধাবাদী, লুটেরাদেরকে দেখতে চায়না। তবে আবার এমনটি যেনো না হয়, আমরা ঘর থেকে চোর তাড়িয়ে,পাহারার জন্য ডাকাত ডেকে আনছি অথবা বেজি তাড়িয়ে সাপ নিয়ে এসেছি।
সাবধান!
ইতিমধ্যেই মিডিয়ার কল্যানে আমরা অবগত যে, আমাদের তথাকথিত বন্ধু প্রতিম দেশের এক শ্রেণির মিডিয়া কর্মী বিভিন্ন অপপ্রচারের মাধ্যমে সে দেশের সরকারকে আমাদের দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে উস্কে দেয়ার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদেরকে অবশ্যই সর্ব্বোচ্য সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং দেশ ও জাতির স্বার্থে, কালের পরিক্রমায় উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা সূচিত হয়েছিলো তা অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট থাকতে হবে। সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়কে স্বজতনে আপনজনের মত করে আগলে রাখতে হবে, যাতে কোন প্রকার অপশক্তি যেনো তাদের ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের লক্ষে এই সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়কে ব্যবহার করতে না পারে, অথবা তাদের উপর জুলুম নির্যাতন করে বহির্বিশ্বে দেশ ও জাতির ভাব মুর্তি নষ্ট করতে না পারে। এ ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে আমি আপন আলোয় উদ্ভাসিত আমার প্রিয় ছাত্র সমাজের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি। আমি অত্যান্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, পাশ্ববর্তী দেশের মিডিয়াগুলো সংখ্যা লঘু সম্প্রদায় প্রশ্নে ব্যাপক মিথ্যাচার ও প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এ থেকে আমাদের সকলকে সাবধান থাকতে হবে। ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজে সিলেটের জিন্দাবাজারে ভারতীয় পুলিশের উপস্স্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। যা সত্যি সত্যিই চরম ভাবে আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলছে।
মনে রাখতে হবে, লাখো শহীদের রক্তে কেনা আমাদের এ দেশটিকে আমরা ঠিক আমাদের মায়ের মত ভালোবাসি। কোন অপশক্তির কালো হাতের ছোঁয়ায় এর একটি ধূলি কণাও যেনো কলুষিত না হয়।
১০:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
একটি সতর্ক বার্তা ও কিছু নির্দলীয় নিরপেক্ষ অথচ অপ্রিয় সত্য কথা
Tag :
জনপ্রিয়