০১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সুব্রত ঘোষ, বগুড়া ব্যুরো প্রধানঃ

উদ্যাক্তা হয়ে কৃষি খামার তৈরী করে আজ সফলতার পথে বগুড়ার শাজাহানপুরের অঝো পাড়া গ্রামের আমিনুর।।

  • প্রকাশিত ০৬:৫৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ৭৭৪ বার দেখা হয়েছে

 

আর নয় বিদেশে দেশেই সম্ভব উদ্যাক্তা হয়ে নিজের পায়ে দাড়িয়ে বেকারত্ব দূর করনের মহা মন্ত্র। এমনি বিরল ইতিহাস সৃস্টি করে বেকার যুবকদের তাক লাগিয়েছেন আমিনুর রহমান নামের এক শিক্ষিত যুবক। বগুড়ায়
আমিনুর রহমান শুধুই একটা নাম নয় এ যেনো এক বেকারত্ব দূর করনের ব্যান্ড। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বগুড়ার আমিনুর রহমান অঝো পাড়া গ্রামে গড়ে তুলেছেন বিশাল কৃষি খামার। তার কৃষি খামারে প্রতিদিন কাজ করছে প্রায় ৩০ জন কর্মচারী। স্বাবলম্বী হয়েছেন শত শত যুবক। এমনি এক সাফল্যের খবর জানাতে ছুটে দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা ছুটে গিয়েছিল বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার পলি পলাশ গ্রামে। শাজাহানপুরের আমরুল ইউনিয়নের পলিপলাশ গ্রামের ইউনুস আলী ছেলে আমিনুর রহমান বাবার ১৮ বিঘা জমিতে ২০১৮ সালে শুরু করেন কৃষি কাজ। কৃষি কাজে ব্যাপক লাভ অনুমান করতে পেরে প্রথমে তিনি ড্রাগন, হাস মুরগী, মাছ,বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ শুরু করেন। কৃষি কাজে ব্যাপক সফলতা লক্ষ্য করে আমিনুর রহমান তার কৃষি খামারে মেধা ও শ্রম দিতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি তার কৃষি খামারের নাম দেন ভিজেল অর্গানিক এগ্রো খামার। এই খামারে তিনি এক ড্রাগন চাষ করেই গত কয়েক বছরে কোটি পতি বনে যান। এই ড্রাগন চাষ করেই তিনি ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। প্রতিদিন ড্রাগনের খামারে কাজ করছে প্রায় ১৫/১৬ জন শ্রমিক। স্বাবলম্বী হয়েছে এই ১৫/১৬ টি পরিবার। প্রথমে ২৫ টাকা পিছ ড্রাগনের চারা কিনে ২ বিঘা জমিতে শুরু করে এই ড্রাগন চাষ। এর পর বাড়তে থাকে তার ড্রাগন চাষের পরিধি। এর পর তার খামারে রয়েছে ২ বিঘা জমির উপর কল ক্ষেত। কলা ক্ষেতের তিনি যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন।আমিনুর রহমানের রয়েছে ২ বিঘা জমিতে পেপের ক্ষেত। সেখানেও তার সীমাহীন সাফল্য। কৃষি কাজে যেখানেই হাত লাগিয়েছে আমিনুর সেখানেই সাফল্য পেয়েছেন। তার রয়েছে একটা বিশাল পুকুর। সেই পুকুরে মাছ চাষ করেও পেয়েছেন সফলতা। সফলতা যেন তার হাতের জাদু। তিনি স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করছে তার উৎপাদিত কৃষিনপন্য।তিল তিল করে কঠোর পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে আমিনুর সাফল্যের দারপ্রান্তে। তিনি আজ ৪০ বিঘা সম্পত্তির মালিক। আমিনুর রহমান ১৯৯৫ সালে নগর শাগ মোজাম্মেল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পাশ করে ভর্তি হন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে। সেখানে তিনি ১৯৯৭ সালে এইএসসি পাশ করেন। এর পর উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ব বিদ্যালায়ে।। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ব বিদ্যালয়ে ইতিহাস বিষয়ে উচ্চ ডিগ্রি লাভ করেন।ব্যাক্তিগত জীবনে আমিনুর রহমান এক মেয়ে ও এক ছেলের জনক। তার স্ত্রী মেমি খাতুন বগুড়া বিএম ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক। আমিনুর রহমান উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রথমে শুরু করেন স্টশনারী ব্যবস্যায়। এরপর শুরু করেন কৃষি নিয়ে কার্যক্রাম। তাকে উৎসাহ যোগায় তার স্ত্রী মেমে খাতুন। কৃষিকাজে পা দিয়েই দেখতে পান তার সফলতার উচ্চ শিখর। শুরু করেন বিভিন্ন শাক সবজি ও ফলের চারা লাগানোর কাজ। বৃদ্ধি পেতে থাকে তার খামার। আমিনুর রহমান দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে জানান, দেশের সম্পদ কাজে লাগালে মানুষ আর বেকার থাকবে না। বর্তমানে কৃষি কাজে ব্যাপক লাভ। বিশেষ করে ড্রাগন চাষে। সাধারণ মানুষে উদ্ভুদ্ধ করলে তারা অনেক লাভ বান হবে। প্রতিদিন অনেক লোকজন আসে তার কাছে পরামর্শ নিতে। তিনি আরো বলেন, মানুষ বিদেশে গিয়ে পরের অধিনে চাকরী করে। কিন্তু বিদেশে না গিয়ে উদ্যাক্তা হলেই তাদের সফলতা দেশেই আসবে। তবে তাকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করেছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বলে তিনি জানান। তিনি বলেন ভিজেল অর্গানিক এগ্রো খামার আজ একটা নাম নয় শুধু এই খামার একটা ব্যান্ড। আর এই ব্যান্ড তৈরী করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।( চলবে)

Tag :

সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তারাগঞ্জে সাংবাদিকে হুমকি দিলেন আবু সাঈদ হত্যামামলার আসামী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান

সুব্রত ঘোষ, বগুড়া ব্যুরো প্রধানঃ

উদ্যাক্তা হয়ে কৃষি খামার তৈরী করে আজ সফলতার পথে বগুড়ার শাজাহানপুরের অঝো পাড়া গ্রামের আমিনুর।।

প্রকাশিত ০৬:৫৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪

 

আর নয় বিদেশে দেশেই সম্ভব উদ্যাক্তা হয়ে নিজের পায়ে দাড়িয়ে বেকারত্ব দূর করনের মহা মন্ত্র। এমনি বিরল ইতিহাস সৃস্টি করে বেকার যুবকদের তাক লাগিয়েছেন আমিনুর রহমান নামের এক শিক্ষিত যুবক। বগুড়ায়
আমিনুর রহমান শুধুই একটা নাম নয় এ যেনো এক বেকারত্ব দূর করনের ব্যান্ড। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বগুড়ার আমিনুর রহমান অঝো পাড়া গ্রামে গড়ে তুলেছেন বিশাল কৃষি খামার। তার কৃষি খামারে প্রতিদিন কাজ করছে প্রায় ৩০ জন কর্মচারী। স্বাবলম্বী হয়েছেন শত শত যুবক। এমনি এক সাফল্যের খবর জানাতে ছুটে দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা ছুটে গিয়েছিল বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার পলি পলাশ গ্রামে। শাজাহানপুরের আমরুল ইউনিয়নের পলিপলাশ গ্রামের ইউনুস আলী ছেলে আমিনুর রহমান বাবার ১৮ বিঘা জমিতে ২০১৮ সালে শুরু করেন কৃষি কাজ। কৃষি কাজে ব্যাপক লাভ অনুমান করতে পেরে প্রথমে তিনি ড্রাগন, হাস মুরগী, মাছ,বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ শুরু করেন। কৃষি কাজে ব্যাপক সফলতা লক্ষ্য করে আমিনুর রহমান তার কৃষি খামারে মেধা ও শ্রম দিতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি তার কৃষি খামারের নাম দেন ভিজেল অর্গানিক এগ্রো খামার। এই খামারে তিনি এক ড্রাগন চাষ করেই গত কয়েক বছরে কোটি পতি বনে যান। এই ড্রাগন চাষ করেই তিনি ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। প্রতিদিন ড্রাগনের খামারে কাজ করছে প্রায় ১৫/১৬ জন শ্রমিক। স্বাবলম্বী হয়েছে এই ১৫/১৬ টি পরিবার। প্রথমে ২৫ টাকা পিছ ড্রাগনের চারা কিনে ২ বিঘা জমিতে শুরু করে এই ড্রাগন চাষ। এর পর বাড়তে থাকে তার ড্রাগন চাষের পরিধি। এর পর তার খামারে রয়েছে ২ বিঘা জমির উপর কল ক্ষেত। কলা ক্ষেতের তিনি যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন।আমিনুর রহমানের রয়েছে ২ বিঘা জমিতে পেপের ক্ষেত। সেখানেও তার সীমাহীন সাফল্য। কৃষি কাজে যেখানেই হাত লাগিয়েছে আমিনুর সেখানেই সাফল্য পেয়েছেন। তার রয়েছে একটা বিশাল পুকুর। সেই পুকুরে মাছ চাষ করেও পেয়েছেন সফলতা। সফলতা যেন তার হাতের জাদু। তিনি স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করছে তার উৎপাদিত কৃষিনপন্য।তিল তিল করে কঠোর পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে আমিনুর সাফল্যের দারপ্রান্তে। তিনি আজ ৪০ বিঘা সম্পত্তির মালিক। আমিনুর রহমান ১৯৯৫ সালে নগর শাগ মোজাম্মেল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পাশ করে ভর্তি হন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে। সেখানে তিনি ১৯৯৭ সালে এইএসসি পাশ করেন। এর পর উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ব বিদ্যালায়ে।। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ব বিদ্যালয়ে ইতিহাস বিষয়ে উচ্চ ডিগ্রি লাভ করেন।ব্যাক্তিগত জীবনে আমিনুর রহমান এক মেয়ে ও এক ছেলের জনক। তার স্ত্রী মেমি খাতুন বগুড়া বিএম ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক। আমিনুর রহমান উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রথমে শুরু করেন স্টশনারী ব্যবস্যায়। এরপর শুরু করেন কৃষি নিয়ে কার্যক্রাম। তাকে উৎসাহ যোগায় তার স্ত্রী মেমে খাতুন। কৃষিকাজে পা দিয়েই দেখতে পান তার সফলতার উচ্চ শিখর। শুরু করেন বিভিন্ন শাক সবজি ও ফলের চারা লাগানোর কাজ। বৃদ্ধি পেতে থাকে তার খামার। আমিনুর রহমান দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে জানান, দেশের সম্পদ কাজে লাগালে মানুষ আর বেকার থাকবে না। বর্তমানে কৃষি কাজে ব্যাপক লাভ। বিশেষ করে ড্রাগন চাষে। সাধারণ মানুষে উদ্ভুদ্ধ করলে তারা অনেক লাভ বান হবে। প্রতিদিন অনেক লোকজন আসে তার কাছে পরামর্শ নিতে। তিনি আরো বলেন, মানুষ বিদেশে গিয়ে পরের অধিনে চাকরী করে। কিন্তু বিদেশে না গিয়ে উদ্যাক্তা হলেই তাদের সফলতা দেশেই আসবে। তবে তাকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করেছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বলে তিনি জানান। তিনি বলেন ভিজেল অর্গানিক এগ্রো খামার আজ একটা নাম নয় শুধু এই খামার একটা ব্যান্ড। আর এই ব্যান্ড তৈরী করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।( চলবে)