রংপুর মানেই মঙ্গা পীড়িত অঞ্চল, ছোট বেলা থেকে এমনটিই জেনে আসছিলাম।এমন কি আট দশ বছর আগেও একথার বাস্তব ভিত্তি ছিলো প্রমানিত। আমি বিগত প্রায় ৫/৬ বছর যাবৎ এ অঞ্চলে আছি এবং গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করার চেষ্টা করছি, বর্তমান সময়ে এই দীর্ঘজীবি বিশেষণটির বাস্তব ভিত্তিক প্রায়োগিক সত্যতা নিয়ে। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক কিছুই বদলে যায়, এরই ধারাবাহিকতায় বদলে গেছে মঙ্গা অধুষ্যিত উত্তর জনপদের রংপুর অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য।
এখন আর এ অঞ্চলকে মঙ্গা পীড়িত অঞ্চল বলা হলে নিতান্ত ভুল বিশেষণে বিশেষায়িত করা হবে এতে সন্দেহ নাই। বারো মাসে তেরো ফসল বলে যে প্রবাদ-প্রবচন প্রচলিত আছে তা বোধকরি বর্তমানের এই উত্তর জনপদের রংপুর অঞ্চলের জন্যই প্রযোজ্য। এখানকার কৃষিবিভাগের ঐকান্তিকতা, কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর কৃষি কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টা এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে তথা তাদেরকে সোনালি স্বপ্ন পূরণের সিংহদ্বারে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।
এ অঞ্চলে ইরি এবং হেউতা জাতের ধান চাষের পাশাপাশি চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের রবি শস্য সহ আখের মত দ্বি-বার্ষিক, ত্রিবার্ষিক মেয়াদী উৎপাদনক্ষম ফসল। রবি শস্যের মধ্যে রয়েছে মূগ কলাই,সরিষা,গম,ভূট্টা,পিয়াজ,রসুন, তামাক ইত্যাদি। এ ছাড়াও রয়েছে শাক-শব্জি, তরিতরকারি, কলা সহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও ফসলের ব্যাপক উৎপাদন। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। যা বর্তমানে এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষদেরকে স্বাবলম্বী করে তুলছে এবং অত্র অঞ্চলকে দিয়েছে স্বতন্র পরিচিতি।