১০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
এবিএম ইমরান:

ইনসাফ কায়েম ইসলাম থেকে শিখতে হবে, পশ্চিমাদের থেকে নয় – ড. মিজানুর রহমান আজহারী

  • প্রকাশিত ১০:৪১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৫২ বার দেখা হয়েছে

বিশ্ববিখ্যাত মুফাস্সিরে কুরআন ড. মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী বলেছেন, ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা ইসলাম থেকেই নিতে হবে, পশ্চিমাদের থেকে নয়। তিনি বলেন, মুসলিম শাসকদের রয়েছে সুবিচার, ন্যায়পরায়ণতা ও সহমর্মিতার এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। তাদের শাসন ব্যবস্থাই বিশ্বকে দেখিয়েছে, কিভাবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে আদল ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা যায়।

৩১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের শহীদ রজব আলী ময়দানে আয়োজিত আল্লামা সাঈদীর স্মৃতিবিজড়িত পাঁচদিনব্যাপী ঐতিহাসিক “তাফসীরুল কুরআন মাহফিল”-এ প্রধান মুফাস্সির হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসলামের সুশাসন ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার শিক্ষা

ড. আজহারী বলেন, মুসলিম শাসকরা শুধুমাত্র সুবিচার প্রতিষ্ঠার কথাই বলেননি, বরং বাস্তবে সেটি করে দেখিয়েছেন। ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় মানুষের হক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে মানবিক রাষ্ট্র গঠনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে, তা আজও ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ। তিনি বলেন, পশ্চিমারা যে ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের কথা বলে, তার মূলে রয়েছে ইসলামের শিক্ষাই। তবে তারা নিজেদের মতো করে সেই শিক্ষা গ্রহণ করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা বিকৃত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আজকের বিশ্বে সত্যিকারের ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের ইসলামের নীতিগুলোকে আবারও তুলে ধরতে হবে। শুধু বক্তৃতা দিয়ে নয়, বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ.ফ.ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, আলেম সমাজের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে অনৈক্যের বিভেদ ভুলে গিয়ে সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। কেবল ঐক্যের মাধ্যমেই দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ফান্ডে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় এবতেদায়ী শিক্ষকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে তাদের জন্য একটি টেকসই সমাধান খোঁজা হচ্ছে। আমরা চাই, দেশের অর্থনীতিকে নিরাপদ রেখে দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যেতে।”

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শাহী জামে মসজিদের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করা হবে।

মাহফিলের সমাপনী দিনে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং নগর আমীর শাহজাহান চৌধুরী।

তিনি ধর্ম উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ইমাম সাহেবদের বেতন বৈষম্য দূর করা জরুরি। এছাড়া এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের সরকারি স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।” তিনি দাবি করেন, ইসলামী শিক্ষার প্রতি আরও আন্তরিক মনোযোগ দেওয়া হলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে।

মাহফিলে বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন আল্লামা সাঈদীর পুত্র শামীম সাঈদী। তিনি বলেন, “আমার বাবা কোনো অপরাধ করেননি, বরং কুরআনের খেদমত করাই ছিল তার একমাত্র ‘অপরাধ’।” তিনি সাঈদীভক্তদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা যদি সত্যিকারের প্রতিশোধ নিতে চান, তবে কোরআনের রাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইনশাআল্লাহ, ইসলামের বিজয় হবেই।”

এইসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি মাওলানা শামসুল ইসলাম, এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের খতিব আওলাদে রাসুল মাওলানা আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরি আল মাদানী, মাওলানা হারুনুর রশিদ

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী নজরুল ইসলাম। আরও বক্তব্য রাখেন—

মাওলানা মুনিরুল ইসলাম মজুমদার, চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুজাহিদুল ইসলাম, তরুণ ইসলামী স্কলার তৌহিদুল হক মিসবাহ, ড. বিএম মফিজুর রহমান আজহারী, ড. মাহমুদুল হাসান, মাওলানা সাফওয়াত বিন হারুন আজহারী

এছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন খ্যাতিমান আলেম-ওলামাগণ মাহফিলে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

চট্টগ্রামে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিলে ইসলামী ইনসাফ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা একমত হন যে, ন্যায়বিচার ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য ইসলামের শাসনব্যবস্থা অনুসরণ করাই সর্বোত্তম পথ। একইসঙ্গে ইমাম ও শিক্ষকদের আর্থিক বৈষম্য দূর করা, এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোর স্বীকৃতি প্রদান এবং ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এই মাহফিল ইসলামপ্রিয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং ইসলামী শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশা জাগিয়েছে।

মাহফিল শেষে আওলাদে রাসুল (স) আল্লামা আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরী আল মাদানী দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধি প্রত্যাশা করে আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন।

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

এবিএম ইমরান:

ইনসাফ কায়েম ইসলাম থেকে শিখতে হবে, পশ্চিমাদের থেকে নয় – ড. মিজানুর রহমান আজহারী

প্রকাশিত ১০:৪১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৫

বিশ্ববিখ্যাত মুফাস্সিরে কুরআন ড. মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী বলেছেন, ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা ইসলাম থেকেই নিতে হবে, পশ্চিমাদের থেকে নয়। তিনি বলেন, মুসলিম শাসকদের রয়েছে সুবিচার, ন্যায়পরায়ণতা ও সহমর্মিতার এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। তাদের শাসন ব্যবস্থাই বিশ্বকে দেখিয়েছে, কিভাবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে আদল ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা যায়।

৩১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের শহীদ রজব আলী ময়দানে আয়োজিত আল্লামা সাঈদীর স্মৃতিবিজড়িত পাঁচদিনব্যাপী ঐতিহাসিক “তাফসীরুল কুরআন মাহফিল”-এ প্রধান মুফাস্সির হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসলামের সুশাসন ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার শিক্ষা

ড. আজহারী বলেন, মুসলিম শাসকরা শুধুমাত্র সুবিচার প্রতিষ্ঠার কথাই বলেননি, বরং বাস্তবে সেটি করে দেখিয়েছেন। ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় মানুষের হক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে মানবিক রাষ্ট্র গঠনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে, তা আজও ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ। তিনি বলেন, পশ্চিমারা যে ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের কথা বলে, তার মূলে রয়েছে ইসলামের শিক্ষাই। তবে তারা নিজেদের মতো করে সেই শিক্ষা গ্রহণ করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা বিকৃত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আজকের বিশ্বে সত্যিকারের ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের ইসলামের নীতিগুলোকে আবারও তুলে ধরতে হবে। শুধু বক্তৃতা দিয়ে নয়, বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ.ফ.ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, আলেম সমাজের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে অনৈক্যের বিভেদ ভুলে গিয়ে সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। কেবল ঐক্যের মাধ্যমেই দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ফান্ডে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় এবতেদায়ী শিক্ষকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে তাদের জন্য একটি টেকসই সমাধান খোঁজা হচ্ছে। আমরা চাই, দেশের অর্থনীতিকে নিরাপদ রেখে দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যেতে।”

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শাহী জামে মসজিদের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করা হবে।

মাহফিলের সমাপনী দিনে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং নগর আমীর শাহজাহান চৌধুরী।

তিনি ধর্ম উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ইমাম সাহেবদের বেতন বৈষম্য দূর করা জরুরি। এছাড়া এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের সরকারি স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।” তিনি দাবি করেন, ইসলামী শিক্ষার প্রতি আরও আন্তরিক মনোযোগ দেওয়া হলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে।

মাহফিলে বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন আল্লামা সাঈদীর পুত্র শামীম সাঈদী। তিনি বলেন, “আমার বাবা কোনো অপরাধ করেননি, বরং কুরআনের খেদমত করাই ছিল তার একমাত্র ‘অপরাধ’।” তিনি সাঈদীভক্তদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা যদি সত্যিকারের প্রতিশোধ নিতে চান, তবে কোরআনের রাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইনশাআল্লাহ, ইসলামের বিজয় হবেই।”

এইসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি মাওলানা শামসুল ইসলাম, এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের খতিব আওলাদে রাসুল মাওলানা আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরি আল মাদানী, মাওলানা হারুনুর রশিদ

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী নজরুল ইসলাম। আরও বক্তব্য রাখেন—

মাওলানা মুনিরুল ইসলাম মজুমদার, চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুজাহিদুল ইসলাম, তরুণ ইসলামী স্কলার তৌহিদুল হক মিসবাহ, ড. বিএম মফিজুর রহমান আজহারী, ড. মাহমুদুল হাসান, মাওলানা সাফওয়াত বিন হারুন আজহারী

এছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন খ্যাতিমান আলেম-ওলামাগণ মাহফিলে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

চট্টগ্রামে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিলে ইসলামী ইনসাফ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা একমত হন যে, ন্যায়বিচার ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য ইসলামের শাসনব্যবস্থা অনুসরণ করাই সর্বোত্তম পথ। একইসঙ্গে ইমাম ও শিক্ষকদের আর্থিক বৈষম্য দূর করা, এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোর স্বীকৃতি প্রদান এবং ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এই মাহফিল ইসলামপ্রিয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং ইসলামী শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশা জাগিয়েছে।

মাহফিল শেষে আওলাদে রাসুল (স) আল্লামা আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরী আল মাদানী দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধি প্রত্যাশা করে আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন।