গত ৩ অগাস্ট, ২০২৫ “জাতীয় সাহিত্য প্রকাশন ট্রাস্ট” – এর উদ্যোগে আয়োজিত “Mega International Literary & Cultural Festival 2024_25” – এর ৪র্থ এপিসোড – এর অঙ্গ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম -এর ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী-উত্তর এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান। সাম্যবাদের কবি কাজী নজরুল ইসলাম -কে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের উদ্যেশ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ১০৫ বিবেকান্দ রোড , কল-৬ , ওয়েস্ট বেঙ্গল-এ অবস্থিত স্বামী বিবেকানন্দের পৈত্রিক বাড়ি এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ( Vivekananda Ancestral House & Cultural Centre ) – এর রামকৃষ্ণ মিশন -এর আন্তর্জাতিক মঞ্চ “রামকৃষ্ণ মঞ্চ”।
দেশ-বিদেশ থেকে আগত বহু প্রতিভাবান গুণী সাহিত্যিক, কবি, গল্পকার, উপন্যাসিক, লেখকদের উপস্থিতিতে উৎসবের মেজাজে উদযাপিত হয় এই আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান। আন্তর্জাতিক এমন একটি মঞ্চে আমন্ত্রিত কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে ত্রিপুরার একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন ত্রিপুরার বিশিষ্ট কবি মৃণাল কান্তি পণ্ডিত।
শঙ্খধ্বনি ও মঙ্গলাচরণের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বেলুড় মঠ ও মিশনস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দিরের অধ্যক্ষ স্বামী মহাপ্রজ্ঞানন্দজী মহারাজ। মঞ্চে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা কলকাতা ও এলাহাবাদ হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি শ্যামল কুমার সেন।
বিশেষ অতিথিরূপে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও আসাম সাহিত্য সভার প্রাক্তন সভাপতি পদ্মশ্রী ডা. সূর্য হাজারিকা। গৌরবময় এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিরূপে প্রতিনিধিত্ব করেন বাংলাদেশ থেকে আগত বঙ্গবন্ধু মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ আলিখান চৌধুরী মানিক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক মোঃ মান্না রায়হান। রাজস্থান থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন বিশিষ্ট গায়ক, অনুবাদক মনোজ ব্যাস। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্ণাটকের ভূমিপুত্র প্রখ্যাত কবি, গীতিকার, স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র নির্মাতা, কৃষি ও পরিবেশবিদ এবং সমাজ সংস্কারক নাগাথিহাল্লি রমেশ। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশ-বিদেশ থেকে আগত বহু গুণী কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
মূলত কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী-উত্তর একটি আন্তর্জাতিক মর্যাদায় অনুষ্ঠেয় এই আয়োজনে মঞ্চে উপবিষ্ট সকলেই কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে তাঁদের নিজ নিজ মনোজ্ঞ বক্তব্য তুলে ধরেন। নজরুল গবেষক ও বিশিষ্ট গায়িকা ড. দীপা দাসের সমবেত উদ্বোধনী সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এই অনুষ্ঠানে কবি কাজী নজরুল ইসলামের “বিদ্রোহী” কবিতা পাঠ করে উপস্থিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন প্রখ্যাত বাচিক শিল্পী দেবাশিস বসু।
এরপর শুরু হয় এই অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ “নজরুল মেমোরিয়াল” আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান ও সম্বর্ধনা পর্ব। প্রথমেই এক লক্ষ টাকার পুরস্কার মূল্য সহ সম্মাননা স্মারক, মানপত্র, উত্তরীয়, শাল, মেডেল প্রদান করে সম্বর্ধিত করা হয় কর্ণাটকের আমন্ত্রিত অতিথি নাগাথিহাল্লি রমেশ মহোদয়কে। তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন যথাক্রমে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শ্যামল কুমার সেন এবং স্বামী মহাপ্রজ্ঞানন্দজী মহারাজ। তারপর ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রেখে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে একে একে উপস্থিত সকল আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বিশেষ আন্তর্জাতিক সম্মাননা স্মারক তুলে দেন এই ট্রাস্টের বিভিন্ন গুণী ব্যক্তিত্ব। উক্ত অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার একমাত্র প্রতিনিধি, বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত কবি ও সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় মৃণাল কান্তি পণ্ডিতকে উত্তরীয় পরিয়ে বিশেষ আন্তর্জাতিক সম্মাননা প্রদান করেন “জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনা ট্রাস্ট”- এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক শক্তিময় দাশ এবং অন্যান্য সম্মানীয় সদস্য-সদস্যাবৃন্দ।
এছাড়াও কবি কাজী নজরুল স্মরণে বেশ কিছু আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশন করেন স্বনামধন্য শিল্পীরা। উল্লেখ্য এবারের এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা গ্রহণ পর্ব ছিল কবি ও সাহিত্যিক মৃণাল কান্তি পণ্ডিত এর জন্য এক গৌরবময় অধ্যায়। আন্তর্জাতিক কবি মৃণাল কান্তি পণ্ডিত ত্রিপুরার গর্ব, এক উজ্জ্বল আলোকিত ব্যক্তিত্ব। সমগ্র অনুষ্ঠানটির পরিচালনায় ছিলেন জাতীয় সাহিত্য প্রকাশন ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক শক্তিময় দাশ।