ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হুমায়রা হিমুর মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ছিল। কিন্তু এদিন উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালত প্রতিবেদন দাখিলের এ তারিখ ঠিক করেন। হিমুর মৃত্যুর ঘটনায় তার খালা নাহিদ আক্তার ২ নভেম্বর রাতে জিয়াউদ্দিন ওরফে রুফিকে আসামি করে মামলাটি করেন। মামলায় নাহিদ আক্তার অভিযোগ করেছেন, জিয়াউদ্দিন রুফি (৩৬) হিমুর বন্ধু। ছয় মাস আগে থেকে সে নিয়মিত হিমুর বাসায় যাতায়াত এবং মাঝে মধ্যে রাত্রী যাপন করত। ১ নভেম্বর রুফির মোবাইল নাম্বার ও ভিগো আইডি ব্লক দেয় হিমু। বিষয়টি নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝামেলা হয়। ২ নভেম্বর বিকেল ৩টার দিকে রুফি বাসায় এসে কলিং বেল দেয়। মিহির দরজা খুলে দিলে সে বাসার ভেতরে যায়। মিহির তার রুমে চলে যায়। ৫টার দিকে রুফি মিহিরের রুমে গিয়ে চিৎকার করতে করতে বলে, হিমু আত্মহত্যা করেছে। তখন মিহির তাকে জিজ্ঞাসা করে, আপনি তো রুমেই ছিলেন। তখন সে বাথরুমে ছিল বলে জানায়। ওই সময় হিমু রুমের সিলিং ফ্যানের হুকের সাথে রশি লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মিহির সাথে সাথে হিমুর রুমে ঢুকে তাকে গলায় রশি লাগিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পায়। রুমে থাকা দুটি কাঁচের গ্লাস ভাঙা অবস্থায় দেখতে পায়। তাৎক্ষণিকভাবে তারা দুজন হিমুকে উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়া গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন রুফি হিমুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দুটি নিয়ে কৌশলে চলে যায়। হিমু আসামির ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার ও ভিগো আইডি ব্লক দেয়। ওই বিষয় নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝামেলা হলে রুফি হিমুকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচনা দিয়ে বাথরুমে প্রবেশ করে। হিমু বিকেল ৩টার পর থেকে ৫টা পর্যন্ত যেকোনো সময়ে আত্মহত্যা করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন নাহিদ আক্তার। মামলা দায়েরের পর জিয়াউদ্দিন রুফিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।