১১:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নয়ন শীল(বিশেষ প্রতিনিধি):

অবশেষে গ্রেফতার হলো চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ

  • প্রকাশিত ১১:৩৭:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫
  • ২৮ বার দেখা হয়েছে

ফেসবুক লাইভে এসে প্রকাশ্যে থানার ওসিকে পেটানোর হুমকি সহ চট্টগ্রামে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ১০টিরও বেশি মামলার তালিকাভুক্ত আসামী চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ ঢাকার কারওয়ান বাজারের বিপণি বিতান বসুন্ধরা সিটি শপিংমল থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।ওই সময় সে স্ত্রীকে নিয়ে শপিং করছিলেন বলে জানা গেছে।

শনিবার ১৫ মার্চ ২৫ ইং রাত ১০:৩০ মিনিটে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করে তেজগাঁও থানার ওসি মোবারক হোসেন জানান,শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর জানান, গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, সাজ্জাদ ঢাকায় বসুন্ধরা শপিং মলে স্ত্রীকে নিয়ে শপিং করার সময় এক সহযোগীসহ ঘোরাঘুরি করছিলেন। সেখানে চট্টগ্রামের এক ব্যক্তি তাকে দেখে চিনতে পারেন। ওই ব্যক্তি লোকজন জড়ো করে সাজ্জাদকে ধরে ফেলেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

জানা যায়, হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মো.জামালের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন নগরীর বায়েজিদ, অক্সিজেন, চান্দগাঁও এলাকায় ‘ছোট সাজ্জাদ’ বা ‘বুড়ির নাতি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।এই ‘ছোট সাজ্জাদ’ হলেন হুলিয়া নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা সাজ্জাদ হোসেনের অনুসারী। প্রায় দুই যুগ আগে চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতুর সংযোগ সড়কে দিনের বেলায় আড়াআড়ি বাস রেখে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীবাহী মাইক্রোবাস আটকে গুলি চালিয়ে আটজনকে হত্যার আসামি ছিলেন হুলিয়া নিয়ে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন। তার অনুসারী হিসেবে তার পক্ষে বায়েজিদ ও চান্দগাঁও এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ , আধিপত্য বিস্তার সহ অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন এই ছোট সাজ্জাদ।

বিগত বছরের ২৯ আগস্ট ও ২১ সেপ্টেম্বরে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্ধর্ষ সাজ্জাদ বাহিনী। গত বছরের ১৭ জুলাই চান্দগাঁও থানা পুলশ অস্ত্রসহ সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে। অবশ্য পরের মাসে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। এরপর থেকে পলাতক ছিলেন তিনি।

গত বছর ২৯ আগস্ট নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কে প্রকাশ্যে গুলি করে মাসুদ কায়সার (৩২) ও মোহাম্মদ আনিস (৩৮) নামে দুজনকে হত্যা করা হয়। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে দুপক্ষের দ্বন্দ্বের জেরেই এ খুন হয়। এ চাঞ্চল্যকর ডাবল মার্ডারের ঘটনার দুই মামলায় ছোট সাজ্জাদ ও তার সহযোগীদের আসামি করা হয়।

১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কালারপুল এলাকায় শটগান হাতে সাজ্জাদ হোসেনসহ আরও দুজন গুলি করতে করতে একটি নির্মাণাধীন ভবনে প্রবেশ করেন। এরপর ওই ভবন মালিকের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

বিগত বছরের ২১ অক্টোবর বিকালে চান্দগাঁও থানার অদুরপাড়া জাগরনী সংঘ ক্লাব সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে কালো রংয়ের মাইক্রোবাস থেকে নেমে স্থানীয় ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসীনকে (২৭) গুলি করে হত্যা করে সাজ্জাদ বাহিনী।ওই ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় তাহসিনের বাবার করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদকে।

বিগত ৪ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাজ্জাদে অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযানে গেলে সাজ্জাদ পুলিশের দিকে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান। এ সময়
গুলিতে পুলিশের দুই সদস্যসহ মোট চারজন গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনার পরবর্তীতে ৩০ জানুয়ারি সাজ্জাদের সন্ধান চেয়ে বা তাকে ধরে দিতে পারলে উপযুক্ত পুরস্কারেরও ঘোষণা করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

এ ঘটনার পরবর্তীতে আত্মগোপনে থাকা ছোট সাজ্জাদ চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি রাতে ফেসবুক লাইভে এসে বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে প্রকাশ্যে পেটানোর হুমকি দেন।এসময় ফেসবুক লাইভে সাজ্জাদ বলেন ‘তোর (ওসি) যদি শাস্তি না হয়, আমি তোকে কুত্তার মতো পেটাবো। অক্সিজেন থেকে বায়েজিদ পর্যন্ত কুত্তার মতো ন্যাংটা করে পেটাবো। কোর্টের রায় আসা পর্যন্ত তোরা টিকে থাকবি। যেখানেই থাকস আমি পিটাবো। প্রয়োজনে আমি মরে যাবো, তোদেরকে মেরে। তবুও আমি হার মানবো না। দেখি, তোদের জোর বেশি না আমার। আরিফ তুই প্রস্তুত থাকিস। তোর উচ্চপদস্থ যারা আছে তাদেরকে বলিস।’ এ ঘটনায় থানায় একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেন বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

অপরাধজগতে পা রেখে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সাজ্জাদ।নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানার প্রায় তিন লাখ বাসিন্দা তার আতঙ্কে দিনাতিপাত করেন। অনেকটা প্রকাশ্যেই চলে তার চাঁদা দাবির বিষয়টি ।নির্মাণাধীন ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা তোলার জন্য তার রয়েছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী। সাজ্জাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি সহ ১০টি মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

নয়ন শীল(বিশেষ প্রতিনিধি):

অবশেষে গ্রেফতার হলো চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ

প্রকাশিত ১১:৩৭:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫

ফেসবুক লাইভে এসে প্রকাশ্যে থানার ওসিকে পেটানোর হুমকি সহ চট্টগ্রামে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ১০টিরও বেশি মামলার তালিকাভুক্ত আসামী চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ ঢাকার কারওয়ান বাজারের বিপণি বিতান বসুন্ধরা সিটি শপিংমল থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।ওই সময় সে স্ত্রীকে নিয়ে শপিং করছিলেন বলে জানা গেছে।

শনিবার ১৫ মার্চ ২৫ ইং রাত ১০:৩০ মিনিটে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করে তেজগাঁও থানার ওসি মোবারক হোসেন জানান,শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর জানান, গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, সাজ্জাদ ঢাকায় বসুন্ধরা শপিং মলে স্ত্রীকে নিয়ে শপিং করার সময় এক সহযোগীসহ ঘোরাঘুরি করছিলেন। সেখানে চট্টগ্রামের এক ব্যক্তি তাকে দেখে চিনতে পারেন। ওই ব্যক্তি লোকজন জড়ো করে সাজ্জাদকে ধরে ফেলেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

জানা যায়, হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মো.জামালের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন নগরীর বায়েজিদ, অক্সিজেন, চান্দগাঁও এলাকায় ‘ছোট সাজ্জাদ’ বা ‘বুড়ির নাতি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।এই ‘ছোট সাজ্জাদ’ হলেন হুলিয়া নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা সাজ্জাদ হোসেনের অনুসারী। প্রায় দুই যুগ আগে চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতুর সংযোগ সড়কে দিনের বেলায় আড়াআড়ি বাস রেখে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীবাহী মাইক্রোবাস আটকে গুলি চালিয়ে আটজনকে হত্যার আসামি ছিলেন হুলিয়া নিয়ে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন। তার অনুসারী হিসেবে তার পক্ষে বায়েজিদ ও চান্দগাঁও এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ , আধিপত্য বিস্তার সহ অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন এই ছোট সাজ্জাদ।

বিগত বছরের ২৯ আগস্ট ও ২১ সেপ্টেম্বরে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্ধর্ষ সাজ্জাদ বাহিনী। গত বছরের ১৭ জুলাই চান্দগাঁও থানা পুলশ অস্ত্রসহ সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে। অবশ্য পরের মাসে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। এরপর থেকে পলাতক ছিলেন তিনি।

গত বছর ২৯ আগস্ট নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কে প্রকাশ্যে গুলি করে মাসুদ কায়সার (৩২) ও মোহাম্মদ আনিস (৩৮) নামে দুজনকে হত্যা করা হয়। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে দুপক্ষের দ্বন্দ্বের জেরেই এ খুন হয়। এ চাঞ্চল্যকর ডাবল মার্ডারের ঘটনার দুই মামলায় ছোট সাজ্জাদ ও তার সহযোগীদের আসামি করা হয়।

১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কালারপুল এলাকায় শটগান হাতে সাজ্জাদ হোসেনসহ আরও দুজন গুলি করতে করতে একটি নির্মাণাধীন ভবনে প্রবেশ করেন। এরপর ওই ভবন মালিকের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

বিগত বছরের ২১ অক্টোবর বিকালে চান্দগাঁও থানার অদুরপাড়া জাগরনী সংঘ ক্লাব সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে কালো রংয়ের মাইক্রোবাস থেকে নেমে স্থানীয় ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসীনকে (২৭) গুলি করে হত্যা করে সাজ্জাদ বাহিনী।ওই ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় তাহসিনের বাবার করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদকে।

বিগত ৪ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাজ্জাদে অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযানে গেলে সাজ্জাদ পুলিশের দিকে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান। এ সময়
গুলিতে পুলিশের দুই সদস্যসহ মোট চারজন গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনার পরবর্তীতে ৩০ জানুয়ারি সাজ্জাদের সন্ধান চেয়ে বা তাকে ধরে দিতে পারলে উপযুক্ত পুরস্কারেরও ঘোষণা করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

এ ঘটনার পরবর্তীতে আত্মগোপনে থাকা ছোট সাজ্জাদ চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি রাতে ফেসবুক লাইভে এসে বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে প্রকাশ্যে পেটানোর হুমকি দেন।এসময় ফেসবুক লাইভে সাজ্জাদ বলেন ‘তোর (ওসি) যদি শাস্তি না হয়, আমি তোকে কুত্তার মতো পেটাবো। অক্সিজেন থেকে বায়েজিদ পর্যন্ত কুত্তার মতো ন্যাংটা করে পেটাবো। কোর্টের রায় আসা পর্যন্ত তোরা টিকে থাকবি। যেখানেই থাকস আমি পিটাবো। প্রয়োজনে আমি মরে যাবো, তোদেরকে মেরে। তবুও আমি হার মানবো না। দেখি, তোদের জোর বেশি না আমার। আরিফ তুই প্রস্তুত থাকিস। তোর উচ্চপদস্থ যারা আছে তাদেরকে বলিস।’ এ ঘটনায় থানায় একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেন বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

অপরাধজগতে পা রেখে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সাজ্জাদ।নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানার প্রায় তিন লাখ বাসিন্দা তার আতঙ্কে দিনাতিপাত করেন। অনেকটা প্রকাশ্যেই চলে তার চাঁদা দাবির বিষয়টি ।নির্মাণাধীন ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা তোলার জন্য তার রয়েছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী। সাজ্জাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি সহ ১০টি মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।